আইফোনের ‘সিরি’ কি গুপ্তচরগিরি করে?


আইফোনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্স ‘সিরি’ খুব সহজেই ব্যবহারকারীর নির্দেশনা শোনে। কিংবা ‘ওকে গুগল’ বললেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ফোন। এদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে উঠছেন ব্যবহারকারীরা। আপনার আইফোন কি আপনার কথা শুনে ফেলছে? আইফোন কি গুপ্তচরবৃত্তি করছে?

অ্যাপল অবশ্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে যে, ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া আইফোন কথা শুনতে পায় না। এ কাজে অ্যাপল কোনো থার্ড-পার্টিকেও ব্যবহার করে না। তবুও অর্থটা কী দাঁড়ায়? থার্ড-পার্টির কাছে ফাঁস না হলেও আপনার গোপনীয়তা অ্যাপলের কাছে তো হতেই পারে।

অ্যাপল জানিয়েছে, সিরিকে চালু করার পর আইফোন কোনো কথা রেকর্ড করে না। ভেঞ্চারবিট এক প্রতিবেদনে জানায়, কথোপকথনের কোনো অংশও শেয়ার করে না সিরি। আবার অ্যাপল থার্ড-পার্টি অ্যাপগুলোকে আপনার মোবাইলে ঢুঁ মারার অনুমতি প্রদানে বাধ্য করে। কাজেই, তারাই বা শুনবে না কেন? এ বিষয়কে ফেসবুক ব্যাখ্যা করে যে, এসব প্রক্রিয়ায় আসলে বিজ্ঞাপন পাঠানোই মূল উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে।

অ্যাপল আইনপ্রণেতাদের এও বলেছে যে, তাদের ব্যবসা আসলে ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে না, এক প্রতিবেদনে জানায় কোয়ার্টজ। সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিতে কাজ করে না। আবার তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া একেক কম্পানি একেকভাবে সম্পন্ন করে। অ্যাপলের সঙ্গে ফেসবুক এবং গুগলও ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষায় জোর দেয় বলেই জানায়। কিন্তু এটাই গল্পের পুরোটা নয়।

অ্যাপল সাধারণত হার্ডওয়্যার পণ্য বিক্রি করে। যা ফেসবুক বা গুগল সেখানে করে না। অ্যাপল জোর গলায় দাবি করে, তারা বিজ্ঞাপন পৌঁছাতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না। কিন্তু তারাও আসলে লক্ষ-কোটি তথ্য সংগ্রহ করে। ব্যবহারকারীদের অ্যাপ ব্যবহারের হিস্ট্রি কিংবা নিউজ অ্যাপের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন পাঠানোর টার্গেট নির্ধারণ করে। অ্যাপলও বিজ্ঞাপন বিক্রি করে যেগুলো নিউজ অ্যাপ কিংবা অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে প্রচারিত হয়।

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ‘হেই সিরি’ না বলা পর্যন্ত আইফোন কখনোই ব্যবহারকারীর কথা শোনে না। অ্যাপল জানায়, কাস্টমার আমাদের পণ্য নয়। আমাদের ব্যবসায়ীক মডেল এমন বৈশিষ্ট্যের নয়। ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহক আমাদের ব্যবসার বৈশিষ্ট্য নয়। আসলে প্রোফাইল টার্গেট করে বিজ্ঞাপন পাঠানো হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, আমরা অনলাইনে কি করি তা জানতে বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছে ফেসবুক। এখন আমাদের কথা শোনারও প্রয়োজন নেই তাদের। ফ্রি ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন একটি বড় বিষয়। আসলে আমাদের জানায় প্রয়োজন কম্পানিগুলো কী করে।