আত্মহত্যার প্রবণতা ও করণীয়


জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের হিসাবে, সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের অন্তিম ইচ্ছার বিষয়টি কিছু লক্ষণে প্রকাশ পায়। এগুলো খেয়াল করুন এবং সাবধান হোন।

শারীরিক লক্ষণ

খুব বেশি বা কম সময় ধরে ঘুমানো। এ বিষয়টি মোটেও স্বাভাবিক হবে না। ব্যক্তিগত বিষয়ে পুরোপুরি বেখেয়ালি হয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি খুব বেশি অপরিচ্ছন্ন হয় যাবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ থাকে না। বিবাহিত হলে যৌনতার প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসবে।

আচরণগত লক্ষণ

মেজাজ-মর্জি বোঝা যাবে না। এই ভালো, এই মন্দ। কোনো কারণ ছাড়াই খুব বেশি আবেগতাড়িত হয়ে পড়বে। যখন-তখন কান্না করে। এর কোনো ব্যাখ্যাও ওই ব্যক্তি দিতে পারে না। একেবারে একা হয়ে যাওয়া আরেকটি লক্ষণ। পরিবার, স্বজন, বন্ধুমহল সবার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। নীরবে-নিভৃতে থাকতে পছন্দ করে। খুব বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা দেখা দেয়। ‘আর বাঁচতে চাই না’ কিংবা ‘চলে যাব’ টাইপের কথা বলতে থাকে।

কথা বলুন

এসব অদ্ভুত আচরণের সামান্যটুকু প্রত্যক্ষ করলেই আপনার উচিত হবে তার সঙ্গে কথা বলা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে গভীর আলোচনা ও কথাবার্তা সবচেয়ে বেশি কাজের হয়ে ওঠে। এতে করে মনের ক্ষোভ ও নেতিবাচক অনুভূতিগুলো কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে কোনো অবস্থায়ই তাদের আচরণের প্রতি বিরক্তভাব দেখিয়ে পরামর্শমূলক বত্তৃদ্ধতা দেবেন না।

অভিভাবকদের জানান

মানুষটি আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা করুক বা না-ই করুক, এসব লক্ষণ দেখামাত্র তার অভিভাবকমহলের কাউকে জানানো উচিত। এতে অবশ্য যাঁকে বলবেন তিনি মারাত্মক মানসিক আঘাত পেতে পারেন।

বিচারক হতে যাবেন না

ওদের বোঝাতে গিয়ে আপনি তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিচারকার্যে বসে যাবেন না। অর্থাৎ তাদের ভুলগুলো এতটা কাঠখোট্টাভাবে বুঝিয়ে দিতে যাবেন না। এমন কথা বলুন যেন আপনার ওপর তারা বিশ্বাস আনতে পারে। আপনাকে যেন তারা শুভাকাঙ্ক্ষী মনে করে।

একা ছাড়বেন না

যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে আপনি ফোনে এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন এবং তিনি মুহূর্তের মধ্যে আত্মহত্যা করে ফেলতে পারেন, সে ক্ষেত্রে কোনো অবস্থায়ই তাঁকে একা ফেলা যাবে না। অর্থাৎ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে থাকুন। এই ফাঁকে তাঁর কাছাকাছি রয়েছে এমন কাউকে বিষয়টা জানাতে হবে।