‘আমার দোলাকেও পাওয়া গেছে’

এবার পাওয়া গেল রেহনুমা তাবাসসুম দোলাকেও (২১)। প্রিয় বান্ধবী বৃষ্টির সঙ্গেই চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুনে তাঁর মৃত্যু হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শিল্পকলা একাডেমি থেকে একসঙ্গে কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন দুই বান্ধবী। এর পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন দুজন। গত ৬ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষায় লাশ শনাক্ত হয়েছিল বৃষ্টির। গতকাল মঙ্গলবার সিআইডি আরো পাঁচ নিহতের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানায়, যার মধ্যে ছিল দোলার লাশও। তাঁদের চারজনের লাশ গতকালই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ থেকে হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের কাছে। এ নিয়ে দুই দফায় সিআইডি ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানিয়েছে, চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর পর নিহতদের ৬৯টি বডিব্যাগে ঢুকানো হলেও সেসব ব্যাগের মধ্যে ৬৬টি লাশ ছিল। তিনটিতে ছিল অন্য নিহতদের খণ্ডিত লাশ। পরীক্ষায় তিনটি খণ্ডিত লাশ পাওয়া গেছে, যেগুলো আগেই স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডির ল্যাবে এখন দুটি শনাক্ত না হওয়া লাশ আছে। আর তিন দাবিদার স্বজন আছে যাদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলছে না তাঁদের নমুনা।

এদিকে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডে জেলা প্রশাসনের হিসাবে নিহত ৭১ জনের মধ্যে (৬৯ বডিব্যাগ হিসাব করে) আগেই ৬৩ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রথম দফায় ৪৬ জন, দ্বিতীয় দফায় দুজন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া চারজনের লাশ হস্তান্তর করা হয়। গত ৬ মার্চ হস্তান্তর করা হয় ১১ লাশ। গতকাল পাঁচজনকে নিয়ে মোট ৬৮ লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলো। সিআইডির ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ নমুনা দিয়ে স্বজন নিখোঁজ বলে দাবি করেছে ২৩ পরিবারের ৪৮ জন। তাদের ১৬ জনের লাশ শনাক্ত হওয়ায় এখনো নিখোঁজ সাতজন। এ হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৭৫ জনে দাঁড়ায়।

গতকাল রাজধানীর মালিবাগে প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন বলেন, মর্গে ৬৮টি মরদেহের ব্যাগ পায় সিআইডি। এর মধ্যে ৪৮টি পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করায় সেগুলো হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০টি ব্যাগ থেকে ও ২৩টি পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা নিয়ে পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরীক্ষার পর প্রথম ধাপে ১১টি মরদেহের পরিচয় মেলে। আজ (গতকাল) আরো পাঁচটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।