ইমিগ্রেশন ইস্যুতে হোয়াইট হাউজে সমঝোতা বৈঠক, স্বস্তি কমিউনিটিতে


আগামী ১৯ জানুয়ারির মধ্যে ৮ লক্ষাধিক ড্রিমারসহ সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীর ভাগ্য নির্ধারণী বিল নিয়ে ৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকান ও ডেমক্র্যাট নেতাদের সাথে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিশুকালে মা-বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর এখন পর্যন্ত অভিবাসনের বৈধ মর্যাদা পায়নি-এমন তরুণ-তরুণীদের বৈধতা প্রদানের একটি বিশেষ আদেশ জারি করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামার সেই ‘ডেফার্ড এ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড এ্যারাভাইল’ তথা ডেকা কর্মসূচির আওতায় ৮ লাখ তরুণ-তরুণীকে ড্রিমার হিসেবে অভিহিত করা হয়। মার্চের প্রথম শেষ সপ্তাহেই ডেকা কর্মসূচি বাতিল হয়ে যাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ নির্বাহী আদেশে। এটি অব্যাহত রাখতে কংগ্রেসকে তাগিদ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। কংগ্রেস যদি এসব তরুণ-তরুণীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য একটি বিল পাশ করে তাহলে ট্রাম্প আপত্তি জানাবে না বলেও ওই বিশেষ আদেশ প্রদানের সময় উল্লেখ করেছেন। তবে এর বাইরে আরো প্রায় সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা প্রদানের কোন আগ্রহই ছিল না ট্রাম্পের। কিন্তু ডেমক্র্যাটরা ট্রাম্পের অন্তবর্তীকালীন বাজেটের অনুমোদনের আগে অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকানদের অকুণ্ঠ সমর্থনের শর্ত দিয়েছেন। ১৯ জানুারির মধ্যেই সেই অন্তবর্তীকালীন বাজেট বিল পাশ করতে হবে, অন্যথায় ফেডারেল সরকারের কাজকর্ম অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না। এমন অবস্থায় কংগ্রেসের উভয়কক্ষের রিপাবলিকান ও ডেমক্র্যাট নেতাদের হোয়াইট হাউজে ডেকে এই বৈঠকে বসেন।

এ সময় ডিভি লটারি বিলুপ্ত এবং পারিবারিক কোটা সংকুচিত করার পাশাপাশি মেক্সিকো সীমান্তের ৭০০ মাইলে দেয়াল নির্মাণের জন্য ১৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রসঙ্গ প্রাধান্য পায়। তাহলেই ডেকাসহ অভিবাসন-সংস্কারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিলে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে রিপাবলিকান সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানদের মধ্যেও এ নিয়ে নমনীয়ভাব দেখা গেছে। ডেমক্র্যাটরা সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। এক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত বরাবর ৭০০ মাইল দেয়াল নির্মাণের জন্য ১৮ বিলিয়ন ডলার দিলেই ড্রিমারদের ব্যাপারে তার কোনো আপত্তি থাকবে না।

অবৈধভাবে বসবাসরতদের মধ্যে যারা কোন অপরাধ করেনি, কঠোর শ্রম দিচ্ছে, মেধার বিনিয়োগ ঘটাচ্ছে, তাদের শর্তসাপেক্ষে বৈধতা প্রদানের প্রসঙ্গ জোরালোভাবে উপস্থাপিত হয় এ সমঝোতা বৈঠকে। বিশেষ করে ‘ডেকা’ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ৮ লক্ষাধিক তরুণ-তরুণীর ব্যাপারটিকে বিশেষ বিবেচনায় দেখার কথা বলা হয়। ড্রিমারদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যে নির্দেশ জারি করেছেন তা প্রত্যাহারের যুক্তিও দেখানো হয় এই বৈঠকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মানবিকতার দৃষ্টিতে সবকিছু করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আমেরিকানদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে কংগ্রেসকে আরো স্পষ্ট অবস্থানে থাকতে হবে। সবকিছু বুদ্ধিমত্তার সাথে করতে হবে।