ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র : মাইক পম্পেও

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিবাদ চরমে উঠলেও দেশটির সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না ওয়াশিংটন।

গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়ার সাশি শহরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক বৈঠকে পম্পেও এ কথা বলেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশ।

পম্পেও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্বাভাবিক একটি দেশের মতন আচরণ করুক। অন্যথায় নিজেদের কোনো স্বার্থ বিঘ্নিত হলে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিক্রিয়া দেখাবে।’

যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না উল্লেখ করে পম্পেও বলেন, ‘আমরা ইরানকে এটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছি যে আমেরিকার স্বার্থ আক্রান্ত হলে, নিশ্চিতভাবেই আমরাও স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখাব।’

অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ হবে না।

‘আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না, তারাও (যুক্তরাষ্ট্র) নয়,’ বলেন ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও টুইটারে নিজের অ্যাকাউন্টে খামেনি ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইরান আগের পরমাণু চুক্তির জায়গায় নতুন কোনো চুক্তির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করবে না।’ গত বছর নিজেদের প্রত্যাহার করা চুক্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরতে হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আলেমদের সঙ্গে হওয়া এক বৈঠকে বলেন, ‘ইরান অন্য কোনো দেশকে অনুসরণ করার মতো সামান্য নয়। আল্লাহ চায় তো আমরা শত্রুদের পরাজিত করে বিজয়ীর বেশে মাথা উঁচু করে এই আপৎকালীন সময় পার হয়ে যাব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে এক লাখ বিশ হাজার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এমন এক প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা এমন কোনো পরিকল্পনা করিনি। আশা করি, তেমন কোনো পরিকল্পনা আমাদের করতে হবে না। আর তেমন কিছু যদি করতেই হয়, তাহলে আমরা আরো অনেক বেশি সৈন্য পাঠাব।’

এর একদিন আগে ট্রাম্প ইরানকে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধির সূত্র ধরে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘ইরান যদি অস্বাভাবিক কিছু করে, তাহলে তাদের ভয়ংকরভাবে ভুগতে হবে।’

ইরান ২০১৫ সালে ছয় পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে করা ওই পারমাণবিক কর্মসূচি বা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) থেকে বেরিয়ে যায় এবং তার পর থেকে ইরানে পুনর্বার অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। শুধু তাই নয়, ওই চুক্তিতে থাকা ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকেও তারা ওই অবরোধে শামিল হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সবাই এই পারমাণবিক চুক্তিটি রাখার পক্ষে।