একাই দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরুতে ফিরলো ৫ বছরের শিশু


করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে দুই মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকে ভারতে আবার অভ্যন্তরণীয় ফ্লাইট চালু করলো বিমান সংস্থাগুলো। বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া মানুষ আস্তে আস্তে গন্তব্যে ফিরছেন। তাদেরই একজন বিহান শর্মা, প্রথম দিন বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে ‘স্পেশাল ক্যাটাগরি’ প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ৫ বছরের ছোট্ট শিশু হৃদয় আলোড়িত করলো।

বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌদা বিমানবন্দরে বিহানের উপস্থিতি ছিল বিশেষ কিছু। প্রায় তিন মাস পর বাবা-মার কাছে ফিরতে একাই দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু বিমানে চড়েছিল পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু। লকডাউনের আগে দাদা-দাদীর সঙ্গে দিল্লি যায় সে। কিন্তু লকডাউনে আটকে পড়ে।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হতেই আর অপেক্ষা করেনি বিহান। দাদা-দাদীও তাকে এতদূর সঙ্গ দিতে পারেননি, বাবা-মায়ের পক্ষেও এই পরিস্থিতিতে তাকে দিল্লি গিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব ছিল না। তাই দিল্লিতে তাকে স্পেশাল ক্যাটাগরিতে বিমানে জায়গা দেওয়া হয়। বেঙ্গালুরুতে নামার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তার মায়ের কাছে তাকে পৌঁছে দেয়। তারা টুইটে লিখেছে, ‘ঘরে স্বাগতম বিহান! আমাদের সব যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি ফিরতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এদিন বিমান চলাচল শুরুর পর বিমানবন্দরের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে বিহানের ছবিও পোস্ট করা হয়েছে সংবাদ সংস্থাটির টুইটার হ্যান্ডলে। হলুদ জামা ও জিন্স প্যান্ট, একই রঙয়ের মাস্ক ও নীল মাস্ক পরা বিহান মার কোলে ফিরে যায়। মা মানজিশ শর্মা ছেলের জন্য বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করছিলেন। এতদিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দে ভাসলেন তিনি, ‘আমার পাঁচ বছরের ছেলে বিহান একাই দিল্লি থেকে এসেছে, তিন মাস পর বেঙ্গালুরুতে ফিরলো সে।’

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের থার্মাল টেস্টিং হয়। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যেক যাত্রীকে মাস্ক দেওয়া হয়। এমনকি ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টরা পিপিই পরে ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।