এক বছরে ৬২৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, ২১ চোরাকারবারি আটক

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর গত এক বছরে ৬২৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। যার বাজার মুল্য প্রায় ৩০৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান আজ জানান, দেশের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসব অবৈধ স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। এ সময় ২১ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক ও ব্যাগেজ রুলে বৈধভাবে স্বর্ণ আনার নীতিমালা থাকার পরও অনেক ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ আনছে।

চোরাই পথে আসা এসব স্বর্ণ আটকে দেশের স্থল ও বিমানবন্দর গুলোতে কড়া গোয়েন্দা নজরদারী রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানোর ফলে বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণসহ চেরাকারবারীরা আমাদের জালে ধরা পড়ছে।

মইনুল খান বলেন, ব্যাগেজ রুলের আওতায় একজন যাত্রী ২৩৪ গ্রাম স্বর্ণ ট্যাক্স দিয়ে বৈধভাবে আনতে পারেন। এজন্য প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য ৩ হাজার টাকা ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়।

স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত বেশিরভাগ মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে এবং এসব মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, সময়ের সাথে অপরাধ প্রবণতা ও অপরাধের কৌশল পাল্টে যাচ্ছে এর সাথে তাল মিলিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদেরও নিত্যনতুন কৌশল আয়ত্ব করতে হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দাদের চৌকস ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করার অধিকতর যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে অপরাধীরা যতই কৌশল বদলায় তাদেরকে আমাদের গোয়েন্দা জালে ধরা দিতেই হচ্ছে।

মইনুল খান বলেন, শুধু শুল্ক ফাঁকি রোধ ও প্রতিরোধই নয়, স্বর্ণ, মুদ্রা, মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্রসহ যেকোন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

চোরাচালান এবং অন্যান্য কাস্টমস অপরাধ ও জালিয়াতি প্রতিরোধ, বাণিজ্যিক জালিয়াতি, বাণিজ্য সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং এবং অন্যান্য কাস্টমস আইন লংঘনের ক্ষেত্রেও অধিদপ্তর তদন্ত করে বলে তিনি জানান।