এ অর্জন অব্যাহত রাখতে জনগণের সহায়তা চাই: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশের যোগ্যতা অর্জনের কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণের। জনগণই হচ্ছে মূল শক্তি। জনগণই পারে সব রকম অর্জন করতে। জাতির পিতা বলেই গেছে, বাংলাদেশের মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য সহায়তা চাই।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশের যোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের যা কিছু অর্জন তা জনগণের। জনগণ যদি ভোট দিয়ে ক্ষমতায় না আনতো তাহলে আজকে দেশের উন্নয়ন করতে পারতাম না। জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্যই আমরা কাজ করি। নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। সব শ্রেণির-পেশার মানুষকে ধন্যবাদ জানাই, তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে বলেই আজকে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। এ অর্জন যারা সকলে একযোগে কাজ করেছি, যারা উন্নয়নে অবদান রেখেছে তাদের ধন্যবাদ জানাই।

বাবার কথা স্মরণ করে আপ্লুত শেখ হাসিনা বলেন, কথাগুলো যত সহজে বললাম, সময় কিন্তু এত সহজে যায়নি। অনেক চড়াই উৎড়াই পার করতে হয়েছে। অনেক বাধাবিঘ্নকে পার করতে হয়েছে। অনেক পথের কাঁটা পায়ে ঠেলে এগিয়ে যেতে হয়েছে। বার বার আঘাত এসেছে। গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে বার বার মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়েছে। ভয় পাইনি কখনো, মৃত্যুকে ভয় পাই না। তা না হলে যে দেশে আমার পিতা-মাতার খুনিদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে, খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পায়, ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসায়, যে দেশের যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ করা হয়, সবকিছু মিলে বৈরি পরিবেশে আমি দেশে এসেছিলাম। সে পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছি। কেন অন্যের কাছ হাত পেতে সাহায্য চাইবো?

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতিসংঘের স্বীকৃতিপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর একটি স্মারক ডাক টিকিট ও ৭০ টাকার স্মারক মুদ্রা উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।