আমার ঘরে তদবির করার কোন সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

ট্রান্সফার কিংবা প্রমোশন যেকোন কাজেই সবার আগে চলে আসে ঘুষ এবং তদবির শব্দ দুটি। কাজটা যদি হয় বড় আস্থার জায়গা ও হতে হবে পাকাপোক্ত সে ক্ষেত্রে মন্ত্রীর আত্মীয় কিংবা নিকটজন হলে ত কথাই নেই!

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও অকপটে স্বীকার করলেন এ রীতির অস্তিত্বের কথা। সেইসঙ্গে দাবি করলেন, তার ঘরে তদবিরের কোন স্থান নেই।

বললেন, অনেকেই ট্রান্সফার কিংবা প্রমোশনের জন্য আগে খোঁজ করেন মন্ত্রীর ঘরে কে আছে? আপনাদের বলে রাখতে চাই আমার ঘরে সেটা পাওয়া যাবে না। এটা অন্য মন্ত্রীর ক্ষেত্রে কাজে লাগান। আমার ঘরে তদবির করার কোন সুযোগ নেই। আপনাদের কারো সাথে আমার ওয়াইফ দেখা করে নাই। আমার বাসায় তদবিরকারীর কোন স্থান নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন আইবি সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির ২৮তম বার্ষিক সম্মেলন’১৮ এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, টাকা দিয়ে কোন ইঞ্জিনিয়ার আমার সময় চিফ ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেননি। বারো মাসে বারো প্রমোশনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কোন ইঞ্জিনিয়ার যদি প্রমাণ দিতে পারেন আমি কারো কাছ থেকে কমিশন নিয়েছি, পার্সেন্টেজ নিয়েছি আমি পদ ছেড়ে দিবো।

স্বার্থ ছাড়া কেউ তদবির করে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনেকে চাইবে আপনার থেকে কিছু টাকা নিতে। আপনার প্রমোশনের জন্য যারা তদবির করে তাদেরকে কেন আপনি টাকা দেন? এটা আমাকে বলতে হবে, টাকাটা আগেই পেমেন্ট হয়ে যায়! আপনি যদি তাকে নির্দিষ্ট একটি প্রলোভন না দেন, সে কেন তদবির করতে আসবে? আমার কাছে কেন তদবির করতে আসবে? আপনি কেন আপনার প্রমোশন ট্রান্সফারের জন্য টাকা দিবেন? আপনার সমস্যা হলে আমি দেখব, সচিব দেখবেন আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী প্রমোশন এবং ট্রান্সফার হবে।

অনেক ইঞ্জিনিয়ার কর্মের নামে অপকর্মে লিপ্ত জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে যথেষ্ট সৎ এবং কমিটেড মানুষ আছে। কিন্তু একটি কাজ যখন এক পশলা বৃষ্টিতে শেষ হয়ে যায় তখন লজ্জাটা কোথায় রাখবেন? আমি যখন রাস্তায় যায় মানুষ আমাকে বলে এই রাস্তাটা ৩ মাস আগে কাজ শেষ হয়েছে। এখন দেখুন চলাচল এবং ব্যবহারে অনুপযোগী। এ কাজগুলো যারা করছেন সেটাকে আমি কর্ম বলিনা, অপকর্ম বলি। এটাকে পরিহার করুন, নিজেদের ক্যারিয়ারের স্বার্থে। দুনিয়া থেকে চলে গেলে কি থাকবে, কর্মফল।