কক্সবাজারে তরুণীসহ ধরা পড়লেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

কক্সবাজারে দেহ ব্যবসা ও ইয়াবা কারবার বন্ধের ডাক দেওয়ার এক দিন পরই ধরা পড়লেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল আহমদ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও সরঞ্জাম।

পুলিশ তাঁর সঙ্গে এক তরুণীকেও আটক করেছে। তবে পুলিশি অভিযানের সময় আরো ১০-১২ জন তরুণী পালিয়ে যায়। কাজী রাসেল কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। সাগরপারের আণবিক শক্তি কমিশন অফিসসংলগ্ন এলাকায় ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাসায় আয়োজিত ইয়াবা সেবনের জলসায় গতকাল সোমবার ভোরে এ অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী ঢাকায় আটক যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়ার মতোই নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল।

পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার সাগরপারে রোহিঙ্গাসহ দুই শতাধিক তরুণীকে আটকে রেখে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতেন এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। তাঁর দাপটে সাগরপারের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ঠ ছিলেন। কাজী রাসেলের এমন অবৈধ কারবারের সঙ্গী কয়েক শ দালাল। এসব দালাল হোটেলে ইয়াবা ও নারী সরবরাহ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, সাগরপারের হোটেল-মোটেল জোনে জমির প্লট ও ফ্ল্যাট দখল করে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা ও ইয়াবার কারবার চলে আসছে। এসব অপরাধে জড়িত রয়েছে দুটি বাহিনী। এদের একটি ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, অন্যটি বিএনপি সমর্থিত সন্ত্রাসী বাহিনী।

ক্ষমতাসীন দলের বাহিনীটি নিয়ন্ত্রক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল। অভিযোগ রয়েছে, সাগরপারের পর্যটন এলাকায় সব ধরনের অপরাধের নিয়ন্ত্রণ করে আসছে তাঁর বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। অন্যদিকে ‘মুনিয়া বাহিনী’ নামের অন্য সন্ত্রাসী দলের বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়ংকর অপরাধের অভিযোগ। বাহিনীটির প্রধান শাহাদত হোসেন মুনিয়া স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী মুনিয়ার বড় বোন এবং কক্সবাজার মহিলা দলের সভানেত্রী নাসিমা আকতার বকুল সন্ত্রাসী বাহিনীটির অন্যতম মদদদাতা।