করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও এই বাজেটের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে কেউ কেউ উচ্চাভিলাষি বললেও সরকার এই বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে আমরা অতীতে কখনো ব্যর্থ হইনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবো না। আমরা কখনো হতাশায় ভুগি না। আমরা সবসময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই।’

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা আজ সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় এ কথা বলেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলছেন বাজেট একটু বেশি আশাবাদি বা উচ্চাভিলাষি। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, সবসময় আমাদের একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। আজকে কোভিড-১৯-এর জন্য সবকিছু স্থবির। তবে, আমরা আশাবাদি যে, এ অবস্থা থাকবে না। এর থেকে উত্তরণ ঘটবে। আজকে যদি হঠাৎ সে অবস্থার উত্তরণ ঘটে যায়, তাহলে আগামিতে আমরা কী করব, সেটা চিন্তা করেই এই পদক্ষেপটা আমরা নিয়েছি।’

জনগণকে আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আগামীতে দেশের সামনে যে সংকটই আসুক না কেন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করবে। কাউকে অনাহারে থাকতে হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে এ পরিস্থিতি থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটবে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই আমাদের বাজেট দিতে হয়েছে। যদি করোনা পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারি তবে হয়তো আমরা এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের প্রস্তুতি আছে। এ কারণেই উচ্চাভিলাষী বাজেট দিয়েছি।’

‘এ বাজেট দিয়েছি কারণ আমরা মানুষের জীবনধারণের মানোন্নয়ন ঘটাতে চাই,’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে চারটি অনুমানের ওপর ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আশা করি, সারা বিশ্বের মতো দেশের অর্থনীতিও ২০২১ সালে ধীরে ধীরে কোভিড-১৯-এর প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি তার আগের অবস্থানে ফিরে আসবে। তাই, আমরা ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি।’

বাজেটে ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন হিসাবে বিবেচিত চারটি অনুমানের বিশদ বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধের সময় অর্থনৈতিক অবকাঠামোর যে ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, তা হয়নি।

‘পাশাপাশি দেশীয় বাজারে সরবরাহের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং মানুষের আয় বাড়াতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। যদি সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে উৎপাদন এবং সরবরাহের ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।