কারাগারে খালেদা জিয়ার এক বছর


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাসের এক বছর অতিবাহিত হয়েছে আজ।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। রাজধানীর পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে। এরপর এই মামলার আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁর সাজা বাড়িয়ে দশ বছর করেন।

এই মামলা ছাড়াও জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে এসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পেলেও কুমিল্লার একটি নাশকতার মাধ্যমে হত্যা মামলায় তাঁর এখনও জামিন হয়নি।

এ বিষয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এনটিভি অনলাইনকে বলেন, খালেদা জিয়া কারগারে যাওয়ার পর গত বছরের ১২ মার্চ হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের প্রভাবে তিনি মুক্ত হতে পারেননি। এ পর্যন্ত তাঁকে অবৈধভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চললে তিনি মুক্তি পেতেন।

যেসব মামলায় খালদা জিয়ার সাজা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা : গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত বছরের ৩০ অক্টোবর এ মামলার আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। সেইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মামলার অন্য আসামিদের ১০ বছরের সাজা বহাল রাখা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার আপিল শুনানি হাইকোর্টে অপেক্ষমান রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে এসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন জামিন পেলেও কুমিল্লার একটি নাশকতার মাধ্যমে হত্যা মামলায় তাঁর এখনও জামিন হয়নি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।