কিউই রূপকথার কাব্যে মিশে আছেন ধোনি!


ব্যাটসম্যান আপনার হয়ে প্রত্যেক ম্যাচে রান করবে না, বোলাররাও প্রতি ম্যাচে আপনাকে উইকেট দেবে না। কিন্তু একজন ভালো ফিল্ডার প্রতি ম্যাচে আপনার রান বাঁচিয়ে দেবে।’ – কথাটা মাহেন্দ্র সিং ধোনির।

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ধোনি ভারতীয় দলে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন। ওয়ানডে দলে আনফিট খেলোয়াড়দের দলের বাইরে পাঠান নিজ সিদ্ধান্তে। যত বড় খেলোয়াড়ই হোক না কেন, তাদেরকে দলের বাইরে পাঠাতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করেননি তিনি। সেই তালিকায় ছিলেন রাহুল দাব্রিড়, ভি ভি এস লক্ষ্মণ ও সৌরভ গাঙ্গুলী। বিসিসিআইকে বুঝিয়েছিলেন, মাঠে চরিত্রের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন খেলোয়াড়। যারা ফিট থাকবে তারাই পারফর্ম করতে পারবে।’

কি অদ্ভুত ধোনির সেই ভাবনাই যেন আজ কাল হলো ভারতের জন্য! প্রতিপক্ষ শিবির এখন দারুণ ফিল্ডিং করেই হারিয়ে দেয় টিম ইন্ডিয়াকে। ম্যানচেস্টারে তেমনই একটি দিন দেখতে হল বিরাট কোহলির ভারতকে। ধোনির রান আউট কিংবা দিনেশ কার্তিকের ক্যাচ। হার্দিক পান্ডিয়ার ক্যাচটাও কম কিসের। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত কিউইরা। তাতে লিখা হয়েছে রূপকথার কাব্য। দ্বিতীয়বারের মতো নিউজ্যিলান্ড গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে।

ধোনির রান আউটের কথা একবার ভেবে দেখুন। রানিং বিটুউন দ্য উইকেটে ধোনি নম্বর ওয়ান। অথচ গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে শেষ ধোনির ইনিংস। শেষ ভারতের ফাইনালে উঠার স্বপ্ন। মিড উইকেট থেকে দৌড়ে এসে বৃত্তের ভেতরে ঢুকে এক হাতে বল তুলে সরাসরি থ্রো গাপটিলের। সেখানেই শেষ ধোনির ৭২ বলে ৫০ রানের ইনিংস। ভারতের পরাজয়ও নিশ্চিত হয়ে যায় তাতে।

অথচ বিশ্বকাপে গাপটিলের ব্যাটে রান নেই। ৯ ম্যাচে রান মাত্র ১৬৭। অথচ ৯ ম্যাচে ক্যাচ ধরেছেন ৮টি। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে অসাধারণ। গালি ও পয়েন্টে দুর্দান্ত ক্যাচ, বৃত্তের ভেতরে রান আটকানো কিংবা দৌড়ে এসে রান আউট; সব মিলিয়ে গাপটিল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত।

আবার নিজের বিপরীত দিকে ঝাঁপিয়ে জিমি নিশাম কার্তিকের যে ক্যাচ নিয়েছেন তা মুগ্ধ করেছে ভারতীয় সমর্থকদেরও। তাইতো দাঁড়িয়ে সেই ক্যাচের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি কেউ। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ফিল্ডিংয়ে ছিলেন নিশাম। ২১ বলে প্রথম রান পাওয়া কার্তিকের ব্যাট ছুঁয়ে বল বেরিয়ে যাচ্ছিল। ফ্রম নো ওয়ার নিশাম বামদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশাম দেখেছিলেন ইডেন পার্কের গ্যালারিতে বসে। চার বছর পর সেই নিশাম দলকে তুলেছেন আরেকটি ফাইনালে।