গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে রক্ষা পেল আইডিয়ালের ছাত্রী


ফিল্মি স্টাইলে অপহরণের শিকার হয়েছিল ফারাবি হুসাইন (১৫) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী। সে রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ মুগদা শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। শনিবার দুপুরে স্কুলের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় একদল দুর্বৃত্ত তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।

এ সময় অপহরণকারীরা নেশাজাতীয় কিছু দিয়ে মেয়েটিকে অচেতন করে ফেলে। পরে বিকাল ৪টার দিকে ওই মাইক্রোবাসটি ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে পৌঁছালে মেয়েটি কৌশলে গাড়ির দরজা খুলে রাস্তায় লাফিয়ে পড়ে দৌড়ে পাশের একটি ফলের দোকানে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পায়।

ফলের দোকানের মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, মেয়েটি দৌড়ে এসে তার দোকানের সামনে পড়ে যায়। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। ওর সঙ্গে থাকা আইডি কার্ড থেকে জানা যায় মেয়েটি আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ মুগদা শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্রী।
সেবাশশ্রুষা করার পর কিছুটা সুস্থ হলে সে তার বাবার মোবাইল নাম্বার জানায়। খবর পেয়ে মেয়েটির বাবা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

জানা যায়, মেয়েটির বাবার নাম অ্যাডভোকেট সেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী। তিনি ঢাকা বারের আইনজীবী। বাসা রাজধানীর বাসাবো এলাকায়।

সেকান্দার আলী জানান, সকালে পরীক্ষা দিতে স্কুলে যায় ফরাবি। পরীক্ষা শেষে স্কুলের সামনে সে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন একটি মাইক্রোবাস তার সামনে এসে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই ছো মেরে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। এ সময় তাকে অচেতন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ফারাবি জানায়, ওই গাড়িতে আরো কয়েকটি মেয়ে ছিল। তার মতো ওদেরও অপহরণ করা হয়েছে। তাকে গাড়িতে তোলার পর মুখে কিছু একটি চেপে ধরা হয়। এতে অর্ধ অচেতন হয়ে পড়ে সে। তবে মাঝে মাঝে সে অপহরণকারীদের কথা শুনতে পাচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে গাড়ির সুইচ চেপে দরজা খুলে রাস্তায় লাফিয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, মেয়েটি সম্ভবত পাচারকারীদের হাতে পড়েছিল। তবে বুদ্ধির জোরে সে বেঁচে গেছে। খবর পেয়ে মেয়েটির বাবা-মা আসলে ওকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ওসি আরও জানান, মেয়েটির বাবা মুগদা থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মুগদা থানা পুলিশ চাইলে তাদের সহযোগিতা করা হবে।