গোপালগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা


গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এম এম মডেল গভ. হাই স্কুলের ১৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সাবেক ছাত্রদের দ্বিতীয় পুনর্মিলনী উপলক্ষে স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এ লাঠি খেলার।

সাতক্ষীরা লাঠিয়াল দল পিতা-পুত্রে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেন।
জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মাঠে নামেন লাঠিয়ালরা। কাঁসির বাদ্য আর ঢোলের তালে নেচে নেচে লাঠি খেলেন লাঠিয়ালরা। লাঠি দিয়ে অন্যের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন অন্য লাঠিয়ালরা, যা এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। ফিরিয়ে নিয়ে যায় চিরচেনা সেই গ্রাম বাংলার দৃশ্যপটে।

হারিয়ে যাওয়া এ লাঠি খেলা দেখতে স্কুল প্রাঙ্গণে হাজির হন নানা বয়সের মানুষ। ইট-পাথরের আওয়াজকে হার মানিয়ে কিছুটা হলেও গ্রামীণ চিত্ত বিনোদনের সুযোগে মেতে ওঠেন তারা। অনেকেই আবার প্রথমবারের মতো লাঠি খেলা দেখে হয়েছেন অবিভুত।

লাঠিয়াল মো. বদর উদ্দিন জানান, লাঠি খেলা এখন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।

আমরা বিয়েবাড়ি, জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে লাঠি খেলা দেখিয়ে থাকি। এতে একদিকে যেমন আমরা আনন্দ পাই অন্য দিকে দর্শকরাও আনন্দ পান। সেইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এ লাঠি খেলাটি টিকে রয়েছে। খেলাটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের পাশাপাশি নিজেদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।
দর্শনার্থী সঞ্চারী রায়, প্রত্যাশা মণ্ডল, অন্যন্যা ভক্ত, এমবি সাইফ, সাইফুল্লাহ রাজুর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, লাঠি খেলাটি তাদের একটি ঐহিত্যবাহী খেলা। তবে এ খেলাটি এখন আর দেখতে পাওয়া যায় না। লাঠি খেলাসহ বিভিন্ন গ্রাম্য খেলাকে টিকিয়ে রাখতে ও আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মাঝে মধ্যে আয়োজন করা উচিত।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্চাসেবক লীগ ও গোপালগঞ্জ এক্স মডেল স্কুল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার বলেন, ‘লাঠি খেলা আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি খেলা, যা আমাদের রক্ত ও মনে প্রাণে মিশে রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া এ খেলাটিকে ধরে রাখতে আমাদের এ আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী এ লাঠি খেলা টিকিয়ে রাখতে আগামীতেও এই গ্রাম্য খেলার আয়োজন করা হবে। ‘