চট্টগ্রামে দেড় লাখ পিস লবণযুক্ত চামড়া নষ্টের আশঙ্কা

ট্যানারি মালিকদের আগ্রহ না থাকায় চট্টগ্রামে এখনও দেড় লাখের বেশি কোরবানির পশুর চামড়া অবিক্রিত রয়ে গেছে। এতে, একদিকে যেমন গুদামে লবণ দেয়া এসব চামড়া নষ্ট হওয়ার পথে, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকা ক্ষতির আশংকায় শঙ্কিত সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

আগের বছরগুলোতে কোরবানির ১৫ দিন পরই শুরু হতো লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা কাঁচাচামড়া ঢাকায় নিয়ে যাওয়া। আর পরবর্তীতে ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সব চামড়া চলে যেত ট্যানারিতে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি পুরো ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর মুরাদপুর রেলক্রসিং থেকে আতুরার ডিপো পর্যন্ত রাস্তার পাশে ২শ’ বেশি চামড়ার গুদামের প্রতিটিতেই পড়ে রয়েছে হাজার হাজার পিস অবিক্রিত চামড়া। গুদামের বাইরে গ্রামে-পাড়া মহল্লাতেও অবেচা চামড়া রয়েছে।

এবার কোরবানিতে চট্টগ্রামে ৫ লাখ পিস পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ লাখ পিস। এর মধ্যে আবার ভালো দাম না পাওয়ায় দর কষাকষি করতে করতেই নষ্ট হয়ে গেছে অনেক চামড়া। আর এখন লবণ দেয়ার পরও বিক্রি না হওয়ায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী সমিতি সাবেক সভাপতি কাদের খান জানান, নগরীর কাঁচাচামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে এখনও এক থেকে দেড় লাখ পিস অবিক্রিত চামড়া রয়েছে। এমন চলতে থাকলে আগামী চামড়া ব্যবসায় আর কেউ অর্থলগ্নি করবেন না।

কোরবানির সময় লবণ ছাড়া চামড়া যে দামে বিক্রি হয়েছে বর্তমানে লবণযুক্ত চামড়া দামও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান, নগরীর কাঁচাচামড়া আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা তদারকি করছে না অন্যদিকে আড়তদাররা চামড়া ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে ধরনা দিচ্ছে বিক্রির জন্য। চট্টগ্রামের আড়তে কোন ট্যানারির মালিক আসছেন না জানিয়ে নগরীর কাঁচাচামড়া আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, সরকার যে একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ওই দামে চামড়া বিক্রি হলেও তো চলত।

আর ওই সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, আমরা সরকারের বেঁধে দেয়া দামের ওপর নির্ভর করে চামড়া কিনেছি। এখন লবণযুক্ত চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে কি-না তা মনিটরিং করার দাবি তার।

চলতি বছর কোরবানির ঈদের আগে লবণ দেয়া চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিলো ২৮ থেকে ৩২ টাকা। কিন্তু চড়া দামে কাঁচা চামড়া কিনেও এই দামে বিক্রি করতে পারছেন না চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।