চার বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে গত চার বছরে তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বর্ণনার পাশাপাশি উন্নয়ন অগ্রযাত্রা যেন ব্যহত না হয় সে বিষয়ে সচেতন হতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়া গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে আগামী নির্বাচনে দেশের সকল নিবন্ধিত দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে যেন কোন মহল অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকেও সতর্ক থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

২০১৪ সালে জনগণের ভোটে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধামন্ত্রী বলেন, আমার ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার।

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী,

আসসালামু আলাইকুম।

২০১৪ সালে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজকের এই দিনে আমি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। আজ বছরপূর্তিতে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছি। আমার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার। কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সে বিচার আপনারাই করবেন।

আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছেন একটি আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন। ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

তার সেই আকাঙ্খা পূরণ করাই আমার একমাত্র ব্রত। ‘‘বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়’’ – জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা আমার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা আমার একটাই প্রচেষ্টা- কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ করব, স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলব।

আমি আজকের দিনে শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি; ৩০ লাখ শহিদ ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সহযোগিতাকারীদের প্রতি জানাই আমার সালাম।