চুরি নয়, স্ত্রীকে হত্যায় মনিরকে ভাড়া করেছিলেন সোহেল?

রাজধানীর সবুজবাগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বাসায় গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসিকে (২৭) কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি স্বামীর পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের। গ্রেফতার হওয়া খুনিকে তার স্বামী ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করেছিলো খুনের জন্য এমনটি অভিযোগ করছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিহতের স্বজনরা এমন অভিযোগ করেন।

চাঁদপুর মতলব উপজেলার মাসুনডা গ্রামের রোস্তম আলীর মেয়ে সে। ৩ ভাই বোনের মধ্যে সে ছিলো সবার ছোট। উত্তরায় একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ থেকে ডেন্টালে প্যারামেডিকেল পাশ করেছে। জারিফ বিন মোস্থাফিজ নামে দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে তার।

নিহত জান্নাতুলের বাবা রোস্তম আলী জানান, ৭ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে করে মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলকে। সোহেল একটি টুরিজম কোম্পানিতে চাকরী করে। সবুজবাগ দক্ষিণাও ৯ নম্বর গলির ৬৬ নং বাসায় ৪তলায় নিজেদের ফ্ল্যাটে থাকতো তারা। তাদের পাশের ফ্ল্যাটটি এখনও ফাঁকা।

তিনি বলেন, প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে করার পর থেকে তারা আলাদাই থাকতো। পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। আগের বাসায় তারা আর সোহেলের ভাবি তারিকা খানমের পরিবার পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকতো। সোহেলের ভাবি তারিকা জান্নাতুলকে পছন্দ করতেন না। ভাবির কথা শুনে মাঝেমাঝেই জান্নাতুলের সাথে ঝগড়া করতো সোহেল। তবে কি কারণে তাদের মধ্যে ঝামেলা হতো তা বলতো না।

রোস্তম আলী আরো জানান, আড়াই মাস আগেই তারা এই বাসায় ওঠেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ওই বাসায় গিয়ে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পাই। তার কিছুক্ষণ পরে খুনি মনিরকে ৪ তলার ছাদে থেকে আটক করে পুলিশ। সে ওই বাসারই কেয়ারটেকার। খুনি আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, সোহেল ও তার ভাবি তারিকা খুনিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করে জান্নাতুলকে খুন করতে। ২০ হাজার টাকা তারা নগদ দিয়েছে ও বাকি টাকা পরে দেবে।

নিহতের ফুফু বলেন, এটা নিশ্চিত পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। তাছাড়া জান্নাতুলের গলায় সোনার চেইন ছিলো, ঘরে টাকা পয়সা ছিলো। খুনি কিছুই নেয়নি। সব কিছুই ঠিক আছে। সে চুরি করতে আসলে তো লুটপাট চালাতো। আমরা এর বিচার চাই।

নিহতের স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর সবুজবাগে গৃহবধুকে ফিরদৌসিকে হত্যার এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল ঘরে ঢোকা চোরকে দেখে ফেলায় প্রাণ তার। পরে পুলিশ বাড়ির ছাদ থেকে কথিত চোর মনিরকে গ্রেফতার করে।

সবুজবাগ থানার উপ পরিদর্শক তৌফিকুর রহমান ও স্বজনরা সেসময় জানান, সোমবার রাত আটটার পর এই বাসায় খাবার পানি বিতরণের দায়িত্বে থাকা মনির চুরি করতে ঢুকলে তাকে দেখে ফেলে জান্নাত। এসময় তার সাথে ধস্তাধস্তি হলে একপর্যায়ে মনির তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। জান্নাতকে হত্যার পর মনির ঐ ভবনের ছাদে লুকিয়ে থাকলে পুলিশ তাকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট।