চুলে রঙ করায় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে: গবেষণা

ইদানীং স্টাইল করার জন্য হলেও আমরা চুলে রঙ করছি। আবার পাকা চুল ঢাকতে বা চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই চুলে স্থায়ী রং করেন। কিন্তু এই স্থায়ী রঙ আমাদের শরীরের জন্য ডেকে আনতে মারাত্মক ঝুঁকি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, চুলে রঙ করার জন্য ব্যবহৃত ‘হেয়ার ডাই’ স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় জানানো গেছে, রং নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেমন- স্তন, ডিম্বাশয় ও ত্বকের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। ‘দি জার্নাল অব দি বিএমজে’তে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, চুলের রং থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে।

ওই গবেষণায় তিন ধরনের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি সম্পর্কে জানা যায়: ‘ইস্ট্রোজেন রিসিপ্টর-নেগেটিভ’, ‘প্রোজেস্টেরন রিসিপটর-নেগেটিভ’ এবং ‘হরমোন রিসিপটর-নেগেটিভ’। এছাড়া ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারও এর সঙ্গে সংযুক্ত। ঘন ঘন চুলে রং করার সাথে এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।

প্রাকৃতিকভাবে কালো চুলে অন্যান্য স্থায়ী রং ব্যবহারের সঙ্গে ‘হজকিন লিম্ফোমা’ বা রক্তের বিশেষ ধরনের শ্বেত কণিকা থেকে ক্যান্সারে হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে জানা যায় ওই গবেষণায়।

কিন্তু চুলে রঙয়ের কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে গবেষকরা ‘নার্সেস হেলথ’ গবেষণা থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ২০০ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, তাদের কারোরই ক্যান্সারের কোনো ইতিহাস ছিল না। তারা সবাই ৩৬ বছরের ওপরে। স্থায়ী রং করার সঙ্গে ত্বকের নিচে ক্যান্সার সৃষ্টির কোষ তৈরির সম্পর্ক পাওয়া যায় তাদের ভেতর। চুলের রংয়ের সবচেয়ে ক্ষতিকারক উপাদান হল অ্যামোনিয়া, পারক্সাইড, পি-ফেনেলিনডাইলিন, ডায়ামিনোবেঞ্জিন, টলুইন-টু, ফাইভ-ডায়ামিন এবং রিজোরসিনোল।

এসব উপাদান ত্বক, চোখ ও ফুসফুসের মারাত্মক জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো মাথার ত্বকে ফোস্কা ফেলা, পুড়িয়ে ফেলা, চুল পড়া এমনকি ক্যান্সার হওয়ার কারণ হতে পারে। তাহলে কি করলে এই ঝুঁকি আপনি কমাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ঘরে প্রাকৃতিক কিছু উপাদান ব্যবহার করে চুল রং করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন:

১.পণ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভালো মতো নিয়মাবলী পড়ে নেবেন।

২. বেশি সময় মাথায় ডাই রাখা যাবে না।

৩. ডাই ধুতে ভালোমতো পানি ব্যবহার করতে হবে।

৪. ডাই ব্যবহারের সময় অবশ্যই গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।

৫. কখনই দুই উপাদান একসঙ্গে মেশাবেন না।