ছয় মাসে এনবিআরের ঘাটতি ২৯ হাজার কোটি টাকা


অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিশাল এই ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলেছে এনবিআরকে। এজন্য রাজস্ব ফাঁকি রোধে ব্যর্থতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তৎপরতার অভাবকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। এনবিআর চেয়ারম্যান বলছেন, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধীরগতিসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি অর্থ বছরের শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায় কম হয় যদিও সময়ের সাথে আদায় বাড়ে। ৫ বছরের পরিসংখ্যান বলছে প্রথম ছয় মাসে প্রবৃদ্ধি হয় গড় ১০ থেকে ১৪ শতাংশ। অথচ এ বছর হয়েছে মাত্র সাড়ে পাঁচ শতাংশ করে। প্রথম ছয় মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৯৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে থাকার নানা কারণ তুলে ধরেন কর্মকর্তারা।

এনবিআর সদস্য রেজাউল হাসান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে অর্থ লেনদেনে প্রভাব লক্ষণীয় ছিল। গ্যাস খাত এবং পেট্রোলিয়াম খাত মিলিয়ে মোট ২৬ হাজার কোটি টাকার অধিক আমরা পাইনি।

তবে বিশাল ঘাটতির জন্য কর্মকর্তাদের যথাযথ তৎপরতা ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ।

আব্দুল মজিদ বলেন, রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি চার বা পাঁচে নেমে যাওয়া উদ্বেগজনক ও ব্যর্থতার পরিচায়ক। এতে এনবিআরের ডিপার্টমেন্টসমূহের বিদ্যমান নীতিমালা ও কর্মধারা অনুসরণে অপারগতা পরিলক্ষিত হয়।

কর্মকর্তাদের কিছুটা গাফিলতি ছিল স্বীকার করে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি, প্রয়োজনে রদবদল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কর্মক্ষেত্রে গাফিলতি আর সহ্য করা হবে না। যারা গাফিলতি করবে তাদেরকে বদলি করা হবে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে যদি কেউ মালপত্র ছাড় করায় তাদের আমদানি লাইসেন্স বাতিল করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গেল তিন বছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলেও এ বছরও সাড়ে ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ২লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয় এনবিআরকে। এর মধ্যে আয়করে প্রবৃদ্ধি কিছুটা ভালো হলেও শুল্ক ও মূসকে প্রবৃদ্ধি হতাশাজনক।