জড়িয়ে যাচ্ছেন প্রিন্স সালমান, ‘কিলিং মিশনে’ তাঁর ঘনিষ্ঠরা


সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। অন্তত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, খাশোগির সম্ভাব্য হত্যার পুরো ঘটনাটিই তাঁর বেঁধে দেওয়া ছক অনুসারেই সাজানো ছিল। আর এই ছক বাস্তবায়নে ১৫ জনের যে দলটি সৌদি আরব থেকে ইস্তাম্বুলে উড়াল দেয় তার অন্তত দুজন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। দেশে-বিদেশে একাধিকবার তাদের দেখা গেছে যুবরাজের পাশে। শুধু তা-ই নয়, ১৫ জনের ১১ জনই সৌদি নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য। তিনজন বিন সালমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ।

তবে সূত্রগুলোর দাবি, খাশোগি রহস্যের আদ্যোপান্ত জানেন না প্রিন্স বিন সালমান। তাঁকে অন্ধকারে রেখেই পুরো ঘটনা ঘটানো হয়। এই দলটির মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল খাশোগিকে দেশে ফেরানো। তবে কনস্যুলেটে প্রবেশের পর ভুল জিজ্ঞাসাবাদের জেরে তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও সৌদি আরবের বহু কর্মকর্তাই মনে করেন, ৩৩ বছর বয়সী প্রিন্স বিন সালমানের অজ্ঞাতে এত বড় কাণ্ড ঘটে যেতে পারে না। তাঁর অনুমোদন সাপেক্ষেই খুন হন খাশোগি।

আরেকটি সূত্র জানায়, সৌদি আরব মনে করে খাশোগির কাছে তাদের ধনী প্রতিদ্বন্দ্বী কাতারের স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে। যদিও কাতারের সঙ্গে খাশোগির সম্পর্কের কোনো প্রমাণ তাদের কাছে ছিল না। সূত্রের দাবি, সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা, অর্থাৎ জেনারেল ইন্টেলিজেন্স প্রেসিডেন্সির ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁর পরিকল্পনার বিষয়ে রিয়াদকে অন্ধকারেই রাখেন। এ কারণেই সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে সেভাবে কোনো তথ্যই শুরুর দিকে ছিল না। তবে সরকার চূড়ান্তভাবে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, তাতে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। গত সোমবার কয়েকটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, ভুল পদ্ধতিতে জিজ্ঞাসাবাদের কারণে খাশোগির মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে হত্যার ইচ্ছা ছিল না। পরিকল্পনা ছিল অপহরণের। গত মঙ্গলবার সিএনএনকে তুরস্কের একটি সূত্র জানায়, ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে দুই সপ্তাহ আগে খাশোগিকে হত্যার পর তাঁর মৃতদেহ টুকরা টুকরা করে ফেলা হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার তুরস্কের কর্মকর্তারা ৯ ঘণ্টা ধরে কনস্যুলেটে অভিযান চালায়। মঙ্গলবারও তল্লাশি অভিযান চালানোর কথা ছিল। হয়নি। গতকালও একই ধরনের পরিকল্পনা ছিল।

তুর্কি কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের কাছে খাশোগি হত্যার অডিও-ভিডিও প্রমাণও রয়েছে। খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর থেকে তুরস্ক বলছে, ওয়াশিংটন পোস্টের এ কলাম লেখক কনস্যুলেটের ভেতরে খুন হয়েছেন। আর এই খুনের সঙ্গে সৌদি আরব থেকে দুটি পৃথক ব্যক্তিগত বিমানে আসা ১৫ জনের একটি দল জড়িত। সিএনএনকে তুর্কি কর্তৃপক্ষ এই ১৫ জনের পাসপোর্টের স্ক্যান কপি পাঠায়। এই দলটি ২ অক্টোবর খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার দিন কনস্যুলেটে প্রবেশ করে এবং ওই দিনই ফিরে যায়।