ঝিকরগাছায় মেয়াদ শেষ হলেও টাকা না দেওয়ার অভিযোগ


সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেডের গণমুখী বীমা প্রকল্পের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়াদ শেষে তিন বছর পার হলেও কম্পানি টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করছে। এ বিষয়ে যশোরের ঝিকরগাছায় ফারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমী মজুমদারের কাছে অভিযোগ করেছেন। ফারুক উপজেলার বামনআলী গ্রামের আজিজ চৌধুরীর ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফারুক ২০০৬ সালের নভেম্বরে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেডের গণমুখী বীমা প্রকল্পের কুষ্টিয়া বিভাগীয় কোর্ডের মুক্তারপুর ব্লকে ১০ বছর মেয়াদি একটি বীমা (ডিপিএস) খোলেন। সে সময় কম্পানির মাঠকর্মী উপজেলার কাউরিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম ও নওয়ালী নবারুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান তাঁকে বীমা করান। বীমার মেয়াদ তিন বছর আগে শেষ হলেও কম্পানি তাঁর টাকা ফেরত দিচ্ছে না। উপরন্তু মাঠকর্মী দুজন আরো তিন হাজার টাকা চাচ্ছে নতুন বীমা খোলার জন্য। তা না হলে টাকা দেওয়া হবে না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উপজেলার বল্লা গ্রামের ইজহার আলী অভিযোগ করেন, কম্পানির মাঠকর্মী আব্দুর রহমানের মাধ্যমে খোলা বীমার মেয়াদ দেড় বছর আগে শেষ হলেও এখনো তিনি টাকা পাননি। আবার তিন হাজার টাকা নিয়েছে নতুন বীমা খোলার কথা বলে। তা না হলে আগের টাকাও পাবেন না বলে জানিয়েছে। একই গ্রামের আরজিনা খাতুন বলেন, ‘তাঁর ছেলে ইব্রাহিম খলিল আব্দুর রহমানের মাধ্যমে বীমা করেছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলে সেও টাকা পায়নি। টাকা নিয়ে নানা টালবাহানা করছে বীমা কম্পানি।’

এ বিষয়ে মাঠকর্মী আব্দুর রহমান বলেন, ‘নতুন বীমা না করলে কম্পানি টাকা দিচ্ছে না। এতে আমার কিছু করার নেই। তবে আমি তাঁদের টাকা ফেরতের চেষ্টা করছি।’ অন্য মাঠকর্মী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তিন বছর আগে কম্পানি থেকে চাকরি ছেড়েছি। গ্রাহকরা মেয়াদ শেষের পরও টাকা ফেরত পাচ্ছে না এটা সত্য। আমি তাঁদের টাকার জন্য ওপরের বসদের বলেছি।’

সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেডের গণমুখী বীমা প্রকল্পের কুষ্টিয়া বিভাগীয় কোর্ডের মুক্তারপুর ব্লকের এএমডি ওলিউল্লাহ বলেন, ‘আমি এক বছর হলো এই দায়িত্বে এসেছি। কিছু গ্রাহক মেয়াদ শেষ করেও টাকা পাচ্ছেন না ঠিক, তবে পেয়ে যাবেন। কিন্তু মেয়াদ শেষে আবার নতুন বীমা করে টাকা ফেরতের বিষয়টি মাঠকর্মীদের ধোঁকাবাজি।’