ডেঙ্গুতে আরো ৪ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ১১৮৯


শুক্রবার রাতে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড হাসপাতালে আবুল কালাম (৩০) নামের একজন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন।

আমাদের কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কালাম গত মঙ্গলবার থেকে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর বাড়ি কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়েনের রহমতপুর এলাকায়।

এ ছাড়া গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আবুল কালাম (৫০) নামের আরেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাদিশাল গ্রামে।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি কালামের ছোট ভাই হারুনুর রশিদ রঙ্গুর বরাত দিয়ে জানান, এক সপ্তাহ আগে তাঁর ভাই জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।

ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে চিকিৎসাধীন জারিফ নামের পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর শিশুটি মারা যায়। ওই দিন বিকেলেই তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। এর আগে শিশুটিকে গাজীপুরে চিকিৎসা করানো হয়। জারিফ ময়মনসিংহের শিকারীকান্দা গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে।

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চাটমোহরে ফরিদা খাতুন (৪৫) নামে এক গৃহবধূ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ফরিদার ভাই দুলাল হোসেন জানান, গত সপ্তাহে তাঁর বোন জ্বরে আক্রান্ত হন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে জ্বর না সারায় গত বুধবার তাঁকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ভোরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্্ ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৫ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৫৪ জন। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৫ জন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৮ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১২ জন, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ৩০ জন উল্লেখযোগ্য।

একই সময়ে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫২ জন। আর বিভাগ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে খুলনা বিভাগে। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৭ জন করে।