ঢাবির বন্ধ হলে চুরি, রাতে ছাত্রলীগ নেতার প্রবেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের তিন কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র হারানো গেছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো। এই বন্ধের মধ্যে শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনসাপেক্ষে হলে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু বিনা প্রয়োজনে যেখানে হলে প্রবেশ করা যায় না সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের তিনটি রুমে চুরির ঘটনা ঘটেছে। হলের দক্ষিণ ব্লকের ৩০৮, ৩০৯ ও ৫০৮ নম্বর রুমে এই চুরির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের লকার ভেঙে ল্যাপটপ, টিভি, জুতা, কাপড়সহ অনেক জিনিসপত্র নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

হলের ৩০৮ নম্বর রুমে থাকেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমান, ৩০৯ নম্বর রুমে হল সংসদের জিএস মেহেদী হাসান শান্ত ও ৫০৮ নম্বর রুমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল আমিন রহমান বলেন, আমি শুক্রবার রাত ৮টার দিকে হলে প্রবেশ করেছিলাম। শনিবার দুপুরে রুমে গিয়ে দেখি তালা ভাঙা। আমার রুমের লকার ভেঙে ল্যাপটপ, জুতা, কাপড়সহ অনেক জিনিস নিয়ে গেছে। অন্যদের রুমেও একই ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে চুরির ঘটনায় হলের কক্ষ পরিদর্শন করেছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান। এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বলেন, আমি এই বিষয় সম্পর্কে অবগত আছি। এই ঘটনায় একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি এখন বিষয়টি দেখবে।

এদিকে হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হলে প্রবেশের সময় সকাল ১০ থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমান প্রবেশ করেছেন রাত ৮টায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেখানে বিকেল ৪টার পর হলে প্রবেশ করতে পারে না সেখানে রাত ৮টায় কীভাবে ছাত্রলীগের এক নেতা প্রবেশ করে- তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। তারা জানিয়েছেন, হল কর্তৃপক্ষের অসাবধানতার কারণে এই চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

রাত ৮টায় কীভাবে একজন ছাত্রলীগ নেতা হলে প্রবেশ করে- জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অফিস চলাকালে মধ্যে ছাত্ররা হলে আসতে পারে। এর বাইরে আসার সুযোগ নেই। যে ছাত্ররা আসে তারা সংশ্লিস্ট শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতি নিয়ে আসে এবং সেই ছাত্রের সঙ্গেও অফিসের একজন লোকও থাকেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ওই ফ্লোরের দায়িত্বে থাকা আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বদরুল হাসান বলেন, ছুটির দিনে আমরা হলে প্রবেশ করতে দেই না। তবে, সে কীভাবে ছুটির দিনে রাতে হলে এল তা আমি জানি না।