তৃতীয় লিঙ্গদের জন্য স্কুল চালু হলো পাকিস্তানে


বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই পাকিস্তানে তৃতীয় লিঙ্গদের (হিজড়া) পড়াশোনা অত্যন্ত দুরুহ। লিঙ্গ পরিচয়ের কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত হচ্ছেন হিজড়ারা। আর হিজড়াদের সেই বিড়ম্বনা দূর করতেই তাদের জন্য পৃথক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে পাকিস্তানে।

পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আলহারা ওপেন এয়ার থিয়েটারে গত রবিবার একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে তৃতীয় লিঙ্গদের জন্য স্কুলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা এনজিও এক্সপ্লোরিং ফিউচার ফাউন্ডেশন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোইজাহ তারিক বলেন, ‘আমরা স্কুলটিতে তৃতীয় লিঙ্গদের দক্ষতা বৃদ্ধির শিক্ষা দেব।’

তিনি বলেন, তারা (তৃতীয় লিঙ্গ) প্রধানত ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আগ্রহী। তাদের প্রসাধনী, ফ্যাশন ডিজাইনিং, এমব্রয়ডারি ও সেলাইয়ের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এছাড়া অনেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইনিং ও রান্নাবান্নায় আগ্রহী। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে প্রথমে তাদের উপযোগী কোর্সের ডিজাইন করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে স্কুলটিতে ৩০ জন শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ডিপ্লোমা সনদ দেওয়া হবে এতে। এতে সনদপ্রাপ্তরা পরবর্তীতে কোথাও চাকরির চেষ্টা করতে পারবেন। এছাড়া নিজেরা ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সেই ব্যবস্থাও করা যাবে।

ভারতের কেরালা রাজ্যেও গত বছর এ ধরনের একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে৷ মানবাধিকার কর্মীরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন৷ তবে হিজড়াদের সমাজের সঙ্গে একীভূত করাই প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা৷

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে গেলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে খারাপ আচরণ পাচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। অনেক সময় আবার স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। ফলে পড়াশোনায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলে নানা অযাচিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তারা। এ কারণে তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে এ স্কুল কাজে দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।