দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকের পর্দা উঠছে আজ

আজ থেকে উড়তে শুরু করবে শান্তির প্রতীক পায়রা, ছুটতে শুরু করবে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী ‘ব্ল্যাকবাক’ হরিণ। যা ১৩তম দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের লোগো ও মাসকট।

এই গেমসটি ২০১৮ সালের মার্চে হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে কয়েক দফা পিছিয়েছে। ২০১৫ সালে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নেপাল নিজেদের গুছিয়ে নিতে সময় নিয়েছে বেশ। এখনো চলছে তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভেন্যু সংস্কার। এখনো পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারেনি তারা। কিন্তু বারবার পিছিয়ে যেতে যেতে এবার সত্যি সত্যিই মাঠে গড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এসএ গেমস।

নেপালের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী বান্দারি এসএ গেমসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। ৩ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে আঞ্চলিক এই ক্রীড়াযজ্ঞের।

নিয়মানুযায়ী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজক দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে নানাভাবে। থাকবে লেজার শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রত্যেক দেশের খেলোয়াড়দের মার্চপাস্ট তো থাকবেই।

আজ শুরু হয়ে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ড কাঠমান্ডু, পোখরা ও জনকপুরে হবে এসএ গেমসের ১৩তম আসর। যেখানে অংশ নিবে ৭টি দেশের ৩২৫০ জন অ্যাথলেট। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৫৯৫ জন, নেপালের ৬৪৮ জন, ভারতের ৪৬১ জন, পাকিস্তানের ৪১৩ জন, মালদ্বীপের ৩৩২ জন, ভুটানের ১৪২ জন ও শ্রীলঙ্কার ৬২২ জন। যারা ১ হাজার ১১৯টি পদকের জন্য লড়বে। তার মধ্যে স্বর্ণ ৩১৭টি, রৌপ্য ৩১৭টি ও ব্রোঞ্জ ৪৭৯টি।

আগের ১২টি আসরের ১২টিতেই দাপটের সঙ্গে মেডেল তালিকার শীর্ষে ছিল ভারত। এবার অবশ্য তারা প্রায় ১০টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে না। পাকিস্তানও তাই। অন্যদিকে সার্কভুক্ত হওয়ার পর নবম আসর থেকে টানা চার আসরে অংশ নিয়ে এবার আর নিচ্ছে না আফগানিস্তান। তারা যোগ দিয়েছে মধ্য এশিয়ায়। তাই এসএ গেমসে তারা অংশ নিবে না।

আগের আসরগুলোতে বাংলাদেশের অর্জন ছিল সামান্য। তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য তৃতীয় স্থান অর্জন। সেটাও ২০১০ সালের ঘরের মাঠে ১৮টি স্বর্ণ জিতে। ভারতের গৌহাটি ও শিলংয়ে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসের সর্বশেষ আসরটি ছিল বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক। মাত্র ৪টি স্বর্ণ জিতেছিল। এবার ভারত, পাকিস্তান প্রায় দশটি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে না। তার উপর আফগানিস্তান খেলছে না। তবুও বড় স্বপ্ন দেখতে পারছে না বাংলাদেশ। যেখানে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত এশিয়ান গেমস আর অলিম্পিকে চোখ রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা এসএ গেমসের মতো আঞ্চলিক গেমসেই বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পাই না। কেন পারছে না?

সমস্যা অবশ্য নানাবিধ। গেমসে ভালো করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। আর প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা। সরকারের কাছ থেকে সেই সহায়তা পেতেও অনেক সময় প্রয়োজন হয়। সহায়তা পেতে পেতে দরজায় কড়া নাড়ে গেমস।

এবার অবশ্য সময় পেয়েছে প্রত্যেকটা ফেডারেশন। অনেকে অ্যাথলেটদের দেশের বাইরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তবুও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব ও এবারের এসএ গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন আসাদুজ্জামান কোহিনূর সাহস পাচ্ছেন না বড় স্বপ্নের কথা বলতে। পদক সংখ্যা এবার ডাবল জিডিটে যেতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

তবুও বেশ কিছু ডিসিপ্লিনে অংশ নেওয়া তারকা অ্যাথলেটদের ঘিরে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে শ্যুটিংয়ে রয়েছেন আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও শাকিল আহমেদ। আর্চারিতে আছেন রোমান সানা, ভারোত্তোলনে আছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। অ্যাথলেটিকসে হাইজাম্পে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়া মাহফুজুর রহমান। কাবাডিতে বাছাই করা হয়েছে নতুন একঝাক খেলোয়াড়। আছে দলগত আরো কিছু ইভেন্ট ক্রিকেট ও ফুটবল। তার সঙ্গে নতুন করে কেউ নিজেদের মেলে ধরতে পারলে বাংলাদেশ ১৩তম এসএ গেমস ডাবল ডিজিটে স্বর্ণ পদক জিতে শেষ করতে পারবে বলেই স্বপ্ন দেখা যায়।

ভারত ১০টি ডিসিপ্লিনে অংশ না নিলেও এবারও তারা ফেবারিট। তারাই থাকবে পদক তালিকার শীর্ষে। আয়োজক নেপাল দ্বিতীয় হওয়ার দাবিদার। বাকিরা লড়াই করে কে কোন স্থানে থাকতে পারে সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।