দ্বিতীয় দিন জি কে শামীমকে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী জি কে শামীমকে। ২৯৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দয়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ সোমবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে দুদক কার্যালয়ে আনা হয় তাকে।

দুদক উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দিনের মতো জি কে শামীমকে দুদক কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যেই মামলা করেছে দুদক। তদন্ত চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আনা হয়েছে তাকে।

এর আগে গতকাল রবিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দুদক। মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এর আগে শামীম ও খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদ ভূঁইয়াকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান দুদকের এ কর্মকর্তা।

গত ২১ অক্টোবর সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা করে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ২৯৭ কোটি আট লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলার পরপরই অন্য মামলায় কারাগারে আটক শামীমকে কমিশনের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে দুদক। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনে শামীমের কার্যালয় থেকে ৬ দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে আটক করে র‌্যাব। অভিযানে তার কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জব্দ করা হয় ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রেট)। পাওয়া যায় বিদেশি মুদ্রা ও মাদকও।