নতুন করে ৬০০ কোটি টাকা ঋণের আবদার ট্যানারি মালিকদের

দেশের তালিকাভুক্ত ১৫৫ ট্যানারি মালিকের সবাই ঋণগ্রস্ত। এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়মিতকরণসহ আরও ৬০০ কোটি টাকা নতুন ঋণের প্রস্তাব দিচ্ছেন তারা। তবে, এও আশঙ্কা করছেন তারা—খেলাপির তালিকাভুক্ত হওয়ায় ৭০ শতাংশ ট্যানারিরই নতুন করে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি নিয়ে সোমবার (২৯) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে চামড়াখাত উন্নয়নে নীতি সহায়তার অংশ হিসেবে ট্যানারি মালিকরা ২০১৭-২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত—৩ বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার প্রস্তাব দেবেন। পাশাপাশি এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড বাদে আগামী ১৬ বছর ধরে সুদমুক্ত কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধের সুযোগও চাইবেন তারা।

এছাড়া, এবার কোরবানির চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন করে যে ৬০০ কোটি টাকা নগদ ঋণ চাইবেন, তার বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ হিসাবে প্রত্যেক ট্যানারি মালিকের কেনা চামড়াকেই বিবেচিত করার দাবি জানাবেন। যা পরবর্তী সময়ে ওই চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে রফতানি পর্যন্ত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আদায় করে নেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

অবশ্য এবার চামড়া কেনায় ব্যাংকগুলো কী পরিমাণ ঋণ দেবে, তার লক্ষ্যমাত্রা এখনো ঠিক করা হয়নি। উদ্যোক্তারাও জানেন না—কী পরিমাণ ঋণ তারা পাবেন। তবে, তাদের আশা—সোমবারের বৈঠকের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী ব্যাংকগুলো পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত চামড়াখাত উন্নয়ন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের বৈঠকে এই শিল্পের বিদ্যমান সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারিখাত ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেছেন, ‘চামড়াশিল্প মহাসংকটে আছে। এখনই এই শিল্পে ঋণ ও নীতিগত সহায়তা না দিলে ১০ বছরেও এই খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই খাতটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

জানতে চাইলে ‘বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএফইএ)-এর প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, ‘এ খাতের উদ্যোক্তারা অন্যের দোষে দুষ্ট। শিল্প নগরীর অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। রফতানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ছেদ পড়েছে। অথচ ট্যানারি সংশ্লিষ্ট খরচ বাড়ছেই। পাশাপাশি নীতি সহায়তাসহ নানা কারণে উদ্যোক্তারা সক্ষমতা হারিয়ে খেলাপি হয়ে পড়েছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)-এর প্রেসিডেন্ট শাহিন আহমেদ বলেন, ‘চামড়াখাতে ব্যাংকঋণের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি চলছে। কোরবানির চামড়া কেনায় যে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, প্রকৃত ঋণ অনেক কম। তারা আগের ঋণই পরিশোধ সাপেক্ষে পুনঃবিনিয়োগ করে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখাচ্ছে। আবার খেলাপি হওয়ার কারণে ৭০-৮০ ভাগ উদ্যোক্তা বরাদ্দের ঋণই পান না। অথচ খেলাপি হতে হয়েছে নীতি সহায়তার অভাবেই।’

শাহিন আহমেদ আরও বলেন, ‘আমরা চাই এই খাতে আবারও সুদিন ফিরুক। চামড়া ব্যবস্থাপনায় সবাই চাহিদাযোগ্য ঋণ পাক। পাশাপাশি ব্যাংকও তার ঋণ ফেরত পাক।’ তিনি বলেন, ‘ট্যানারি উদ্যোক্তাদের প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনা করা হলে ব্যাংক, উদ্যোক্তা—সবার জন্যই শুভ হবে।’ না হলে এই শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।