নেগেটিভকে করোনা রোগী বানিয়ে লাশ আটকে বিল আদায়ের অভিযোগ

সিলেটে নেগেটিভ হওয়া সত্ত্বেও করোনা ইউনিটে আটকে রেখে চিকিৎসায় বাধ্য করা ও লাশ আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ সুরমার উলালমহল গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিনের ভাতিজা আবদুল বারী এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ সুরমার উলালমহল গ্রামের নাসির উদ্দিন (৬০) গত ৩ সেপ্টেম্বর নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির পর রোগীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা ইউনিটে নিয়ে যেতে চাইলে স্বজনরা ‘করোনা নেগেটিভ’ রিপোর্ট দেখান। তবু স্বজনদের কথা উপেক্ষা করে কর্তব্যরতরা রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডে না রেখে করোনা ইউনিটে নিয়ে যান এবং করোনা ইউনিটে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করেন।

একদিন পর রোগীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে করোনায় মুমূর্ষু রোগীর মতো রক্তের প্লাজমা দেয়ার কথা বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তবে স্বজনরা সম্মত না হলে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৫ সেপ্টেম্বর ভোরে নাসির উদ্দিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনদের হাতে ৭৭ হাজার ৪৭২ টাকার বিল ধরিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিলে শুধু পিপিই এবং সুরক্ষাসামগ্রী বাবদ প্রতিদিন ধরা হয় ৪ হাজার ২৫০ টাকা। বড় অংকের বিল এবং গভীর রাত হওয়ার স্বজনরা টাকা বকেয়া রেখে লাশ নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ দেয়নি।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল দাফন-কাফনের সুযোগ দেয়ার সুপারিশ করেন এবং নিজে উপস্থিত হয়ে বিল পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই অনুরোধও রাখেননি হাসপাতালে কর্তব্যরতরা। পরে সকাল ৯টায় আবদুল জব্বার জলিল হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বিলের টাকা পরিশোধ করার পরই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসব অভিযোগ তুলে ধরে বিচার প্রার্থনা করা হয়েছে আবেদনে।

তবে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সমন্বয়ক ড. নাজমুল হক অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সামগ্রীর ব্যয়ও রোগীকে বহন করতে হয়।