পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ না করলে কিমকে ক্ষমতা হারানোর হুমকি ট্রাম্পের


পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ক্ষমতায় থাকার নিশ্চয়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অস্ত্র ত্যাগ না করলে কিমের পরিণতি লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো হতে পারে। বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার জেরে দক্ষিণের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা স্থগিত করে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া, আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় কিম-ট্রাম্প বৈঠক পরিকল্পনা মতো হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার জন্য চাপ দেয়ার কারণে এমন হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে ট্রাম্প এখনো আশাবাদী যে বৈঠকটি হবে। তিনি বলেন, আগামী মাসের বৈঠকটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলে উত্তর কোরিয়া শক্তিশালী সুরক্ষা পাবে। কিমকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, তিনি তার দেশে থাকবেন ও দেশ পরিচালনা করবেন। তার দেশ অনেক ধনী হবে। কিন্তু যদি নির্ধারিত আলোচনা ব্যর্থ হয় তাহলে তার পরিণতি লিবিয়ার সাবেক নেতা গাদ্দাফির মতো হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি পারমাণবিক অস্ত্র প্রত্যাহারে সম্মত হন। তবে তিন বছর পর পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে নৃশংস মৃত্যু হয় তার। ট্রাম্প বলেন, ‘লিবিয়ার দিকে তাকালে বোঝা যায় আমরা কোন চুক্তিতে না পৌঁছালে কি ঘটতে পারে।’

ট্রাম্প আরো জানান, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে কিম জন উনকে প্রভাবিত করে থাকতে পারেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি ওই দুই নেতার মধ্যকার এক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, এটা খুবই সম্ভব যে তিনি কিম জং উনকে প্রভাবিত করছেন।

ট্রাম্প আরো বলেন যে, উত্তর কোরিয়া হুমকি দিলেও দুই দেশই বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। প্রস্তুতি গ্রহণে কোন পরিবর্তন আসেনি। তিনি জানান, উভয় দেশের কর্মকর্তারা এমনভাবে বৈঠক নিয়ে পরিকল্পনা করছেন যেন কিছুই ঘটেনি। তিনি বলেন, আমি কেবল এটাই বলতে পারি যে, আমাদের লোকেরা তাদের সঙ্গে আক্ষরিকভাবেই বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।