পোশাক ও চামড়া শিল্পের তিন প্রদর্শনী শুরু আইসিসিবিতে


সাভার চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার সম্পূর্ণ চালু করতে সরকার জোরালো চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অনেক ট্যানারির মালিক নিজস্ব কারখানায় ব্যক্তিগতভাবে বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণে আগ্রহী বলে আমাকে জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সরকার তাদের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি আশা করছি, এতে বর্জ্য শোধন নিয়ে সাভার শিল্প নগরীর চলমান সমস্যার সমাধান হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তৈরি পোশাক এবং চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্ট ‘প্রিন্ট টেক বাংলাদেশ’, ‘গারটেক্স বাংলাদেশ’ এবং ‘বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো’ ত্রিমাত্রিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইনডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএএ) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে এর আয়োজন করে। বিআইএএর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. নজরুল ইসলাম খান, বিএফএলএলএফইএর প্রতিনিধি শাহজালাল মজুমদার, বিজিএপিএমইএর সভাপতি আব্দুল কাদের খান, বিইএমইএর সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরী, বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী আলী, বাংলাদেশ সাইন ম্যাটারিয়ালস অ্যান্ড মেশিনারিজ ইম্পোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হোসেন মোহাম্মদ ইমরান এবং লেদার ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট সোসাইটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুশফিকুর রহমান।

তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, ইউএস বাংলা লেদার প্রডাক্ট লিমিটেড, এঞ্জেল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ভেন্ড ফারবান স্পা, অ্যাগ্রো বেস্ট করপোরেশন, আশরাফ লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার, মিক্কাসহ তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্ট ২২৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। ১৩টি দেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক স্টলে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের উৎপাদিত পণ্য, প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, রপ্তানিযোগ্য গুণগতমানের পণ্য প্রদর্শনী করা হচ্ছে। এখানে পণ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে মূলত ক্রেতা সংগ্রহে চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক স্টলের মধ্যে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগ্রহী ক্রেতাদের বৈঠক করতে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বহির্বিশ্বে স্বার্থান্বেষী মহলের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ এখন তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.৬১ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৮.১৫ বিলিয়ন ডলার। বহির্বিশ্বে একই ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও সরকার এবং উদ্যোক্তাদের দৃঢ়তায় চামড়া খাত প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। গত এক দশকে আমাদের জুতা রপ্তানির পরিমাণ ৭ গুণ বেড়েছে।