প্রশ্ন ফাঁসকারী প্রতারণা চক্রের আইডি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দশটি ভুয়া আইডি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করত একটি চক্র এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিত বড় অঙ্কের টাকা।

বুধবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা এলাকা থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের মূলহোতা কাউসার গাজী (১৯) সহ আরো চারজনকে আটক করে পুলিশর অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম। বাকি আটকেরা হলেন সোহেল মিয়া (২১), তারিকুল ইসলাম শোভন (১৯), রুবাইয়াত তানভির (আদিত্য), মাসুদুর রহমান ইমন।

এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল, ২টি ল্যাপটপ ও বিকাশের একটি রেজিস্টার খাতা উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মালিবাগের সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, এই প্রশ্ন ফাঁসকারী প্রতারণা চক্রের মূলহোতা কাউসার গাজী জানায় বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নজরদারির মধ্যে তারা প্রশ্ন ফাঁস করতে পারে না। তাই বিগত বছরের মেডিকেলের প্রশ্ন ও সাজেশনস মিলিয়ে নিজেদের মতো করে প্রশ্ন তৈরি করে। পরে ফেসবুকে বিভিন্ন ভুয়া আইডি ও ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপে প্রশ্ন ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করতো।

নজরুল ইসলাম জানান, মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে এ কাজে সহযোগিতা করতো তার বন্ধু সোহেল মিয়া। সে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ একাউন্ট খোলার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করত।প্রশ্নপত্র

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে তারা আরো জানায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজ করছে তারা। চলতি বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতার কারণে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারেনি। পরে তারা ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে দশটি ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেডিকেলের প্রশ্ন পাওয়া যায় বলে প্রচারণা চালাত এবং শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করত।

মোল্যা নজরুল বলেন, আসামি শোভন জানায় সে suzon.mahmud17 নামে ফেসবুকের আইডি খুলে মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে দিতে পারবে বলে প্রচারণা চালায়। তার এই ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেকে তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করে এবং পরে বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে অগ্রীম অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারণা করত।