প্রাথমিকেও জিপিএ ৫ এর পরিবর্তে ৪


সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এবার এই উদ্যোগের আওতায় আনা হচ্ছে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলও। ফলে প্রাথমিক স্তরেও জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে চালু হতে যাচ্ছে সিজিপিএ-৪।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমপানীতেও সর্বোচ্চ গ্রেড হবে সিজিপিএ-৪। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং পরিবর্তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাথমিকেও এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গ্রেডিং পরিবর্তনের চূড়ান্ত ঘোষণার ওপর।

মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে, তাহলে তাদের সঙ্গে মিল রেখে আমরাও জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে সিজিপিএ-৪ করব।’

তিনি বলেন, ‘এই বছরের জেএসসি পরীক্ষা থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি চালু করতে চাচ্ছে, সেক্ষেত্রে আমাদেরও তা করতে সময় লাগবে না। আমরা খুব দ্রুত একটি কমিটি করে দেব। এরপর কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর আগামী পরীক্ষা থেকেই এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’

গত ১২ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি’র এক সভায় জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে সিজিপিএ-৪ চালুর প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই আমলে আসে বিষয়টি। আগামী জেএসসি পরীক্ষা থেকেই সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৪ করে ফল প্রকাশের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই সভায় জিপিএ পুনঃবিন্যাস করে এক মাসের মধ্যে একটি খসড়া উপস্থাপনের নির্দেশও দেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই অনুযায়ী এখন একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

বুধবার (২৬ জুন) শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করার কথা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান এ বিষয়ে কাজ করছেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘কত নম্বর থেকে কত নম্বর পেলে জিপিএ-৪ হবে এবং সেটা কীভাবে প্রয়োগ হবে তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে। সবার সম্মতি থাকলে চলতি বছরের জেএসসি থেকেই আমরা জিপিএ ৪-এর মধ্যে ফল প্রকাশ করতে চাই। কারণ আমাদের সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ অথচ আন্তর্জাতিক পর্যায় ও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়েও এ গ্রেড হচ্ছে সিজিপিএ-৪।’

সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৪ নির্ধারণের পক্ষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগে যেখানে একটি বিষয়ে ৮০ থেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে পেলে হতো সর্বোচ্চ গ্রেড-৫ সেখানে এখন দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। যার একটি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ এবং অপরটি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০।

কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন যে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তার যে কোনো একটি হলেও আগের মতো লাখ লাখ সর্বোচ্চ স্কোর আর হবে না। কমে আসবে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতি চালু হয়। এ পদ্ধতিতে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট-৫, লেটার গ্রেড এ প্লাস। এটাই সর্বোচ্চ গ্রেড। এরপর ৭০ থেকে ৭৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট-৪, লেটার গ্রেড এ। ৬০ থেকে ৬৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট-৩.৫০, লেটার গ্রেড এ মাইনাস। ৫০ থেকে ৫৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট-৩, লেটার গ্রেড বি।

৪০ থেকে ৪৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট-২, লেটার গ্রেড সি। ৩৩ থেকে ৩৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট এক, লেটার গ্রেড ডি। আর শূন্য থেকে ৩২ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রেড পয়েন্ট জিরো অর্থাৎ লেটার গ্রেড এফ ধরা হয়। জিপিএ-১ অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ হিসেবে ধরা হয়। কোনো বিষয়ে এফ গ্রেড না পেলে চতুর্থ বিষয় বাদে সব বিষয়ের প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্টকে গড় করেই একজন শিক্ষার্থীর লেটার গ্রেড নির্ণয় করা হয়।