বাংলা প্রথম পত্র

অপরিচিতা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন : স্কুলের পণ্ডিতমশায়েরা অনুপমকে মাকাল ফল ও শিমুল ফুল বলে ডাকতেন কেন?

উত্তর : সুদর্শন অনুপমের ব্যক্তিত্বহীন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও অন্তসারশূন্য অবস্থা বোঝাতে স্কুলের পণ্ডিতমশায়েরা তাকে মাকাল ফল ও শিমুল ফুল বলে ডাকতেন।

দেখতে সুন্দর হলেও মাকাল ফল ও শিমুল ফুল উভয়ই অপদার্থ। কারণ এগুলো বিশেষ কোনো কাজে আসে না। মাকাল ফল পাকলে টুসটুসে সিঁদুরে রং ধারণ করে ও দূর থেকে দেখতে অত্যন্ত সুন্দর দেখায়। কিন্তু তা খাওয়ার অনুপযোগী। কারণ এর ভেতরে দুর্গন্ধযুক্ত কালো বিচি ও আঁশ ছাড়া আর কিছুই থাকে না। অন্যদিকে শিমুল ফুল এমন এক ধরনের ফুল, যার কোনো গন্ধ নেই, ওজনে অনেক ভারী ও দ্রুত পচনশীল। যার কারণে মালা গাঁথা, ডালা সাজানো বা উপহার দেওয়ার মতো কাজে কেউ এ ফুল ব্যবহার করে না। অথচ গাছে ফুটে থাকা শিমুল ফুল দেখতে খুব সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক। তেমনি বাল্যকালে পিতা হারানো অনুপম মাতৃস্নেহে বড় হলেও তার কোনো মানসিক বিকাশ ঘটেনি। দেখতে খুব সুন্দর ও এমএ পাস ছেলে হলেও সে ছিল ব্যক্তিত্বহীন ও অপদার্থ। মাকাল ফল ও শিমুল ফুলের মতো শুধু দেখতে সুন্দর হলেও অনুপম ছিল ব্যক্তিত্বহীন ও অপদার্থ ছেলে। যার কারণে বাল্যকালে স্কুলের পণ্ডিতমশাইয়েরা তাকে বিদ্রূপ করে মাকাল ফল ও শিমুল ফুল বলে ডাকতেন।

প্রশ্ন : মামাকে অনুপমের ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলা হয়েছে কেন?

উত্তর : অনুপমের ওপরে মামার একচ্ছত্র আধিপত্য ও কর্তৃত্ব ফলানোর কারণে মামাকে অনুপমের ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলা হয়েছে।

বাল্যকালে পিতা হারানো অনুপম মায়ের আঁচল তলে মাতৃস্নেহে বেড়ে ওঠা এক ভীরু-ব্যক্তিত্বহীন ছেলে। মায়ের পরে মামাই তার প্রধান অভিভাবক। মামা যে সিদ্ধান্ত দেন অনুপমকে তা-ই মেনে নিতে হয়। মামার সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কাজ করার ক্ষমতা তার নেই। ভেতরে মা ও বাহিরে মামা ছাড়া তার আর কেউ নেই। বিধাতা যেমন আমাদের ভাগ্যের নিয়ন্তা হিসেবে যা করেন তা-ই আমাদের মেনে নিতে হয়। তেমনি অনুপমের মামা তার ভাগ্যদেবতা হিসেবে যা করেন অনুপমকে তাই অবলীলায় মেনে নিতে হয়। মামার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করার ক্ষমতা না থাকার কারণে মামাকে অনুপমের ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলা হয়েছে। এজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসেবে মামা অনুপমের ভাগ্য নিয়ন্তা হিসেবে তার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় অনুপম মামার দেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকে। তৎকালীন সমাজে ছেলে-মেয়েদের একান্তভাবে অভিভাবকের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হতো। যেহেতু মামা ছিলেন অনুপমের অভিভাবক, সেহেতু অনুপমকে মামার সিদ্ধান্ত মেনেই চলতে হতো।