বাণিজ্য মেলায় ১০ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতার সম্মাননা

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সদ্য শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ১০টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হিসাবে নির্বাচিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট (ভ্যালু এডেড ট্যাক্স) বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) কর্তৃপক্ষ এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেরা ভ্যাট দাতা প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করবে।

ঢাকা পশ্চিমের ভ্যাট কমিশনার ড. মইনুল খান বলেন, বাণিজ্য মেলা থেকে হিসাব মত ভ্যাট আদায়ে আমরা কাজ করছি। সেরা ভ্যাট দাতাদের সম্মাননা দেয়া হবে। রাজস্ব ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট সূত্র জানায়, এবারে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা নির্বাচিত হয়েছে ওয়াল্টন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লি। এরপর রয়েছে এসকেয়ার ইলেকট্রনিকস লি. ও সারা লাইফ স্টাইল লিমিটেড। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে ৩৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ৩৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও ৩২ লাখ ৫ হাজার লাখ টাকার ভ্যাট পরিশোধ করেছে।

মেলার অন্যান্য যারা সম্মাননা পাবে- র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস্ লিমিটেড, হাতিল কম্প্লেক্স লি., মাল্টি লাইন ইন্ডাস্ট্রিজ লি., ফিট এলিগেন্স লি., নাভানা ফার্নিচার লি., ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স লি. এবং বংগ বেকারস লি।

এই মেলায় সর্বমোট ভ্যাট আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। মেলায় অধিকাংশ পণ্যে খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য।

গত বছর মেলায় এই ভ্যাট আহরণ হয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ টাকা। এবারের মেলা স্টলের সংখ্যা ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় ভ্যাট কর্তৃপক্ষের নজরদারি সত্ত্বেও ভ্যাট আহরণ কিছুটা কম হয়েছে।

মেলায় এবার ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট থেকে আটটি টিম নজরদারি করে। এবারে বণিজ্য মেলাতে ভ্যাট ফাঁকি দেয়ায় ২৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা করা হয়। এতে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়।

উল্লেখ্য, এই বছর স্টলের সংখ্যা ছিল ৪৮৭, যা আগের বছর ছিল ৫৬৯টি। অন্যদিকে চলতি বছরের দর্শনার্থীর সংখ্যা ২৩ লাখ। অন্যদিকে আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ।

তাছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চলতি বছরের মেলায় কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কেবল ৫ শতাংশ ট্রেড ভ্যাট আদায়ের নির্দেশনা দেয়। এতে কেবল হাতিল ফার্নিচার থেকে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা কম আহরণ হয়েছে। গত বছর ভ্যাটের এই হার ছিল ১৫ শতাংশ।

এছাড়া বিভিন্ন কারণে সাপ্তাহিক ছুটিতে ৩ দিন (১০ জানুয়ারি – শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি – শুক্রবার, ও ১ ফেব্রুয়ারি – শনিবার) পূর্ণ দিবস বন্ধ ছিল। অন্যদিকে ৭ জানুয়ারি, ৯ জানুয়ারি ও ২২ জানুয়ারি মেলা অর্ধদিবস বন্ধ ছিল। পরে ৫ দিন মেলার মেয়াদ বাড়লেও তাতে কোনো শুক্রবার, শনিবার ছিলো না এবং পর্যাপ্ত ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল।

ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট চলতি মাসে দিনক্ষণ নির্ধারণ করে ব্যবসায়িদের এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করবে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতেই প্রতি বছর বাণিজ্য মেলায় সংগৃহীত সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতাকে এই সম্মাননা দেয়া হয়।