বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি : ফের সময় পেল রাষ্ট্রপক্ষ

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে সরকারকে আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ সোমবার এক আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে আবেদন ও এর শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে আবেদনটির শুনানি শেষে আদালত এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন। এর আগে রবিবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

দেশের উচ্চ আদালতের বিচারক সংকটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। ওই দিন সকালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে দেওয়া ২ সপ্তাহ সময় শেষ হওয়ার পরও আজ নয় কাল বলে উঠে যান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তার সঙ্গে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের অবশিষ্ট পাঁচ বিচারপতিও (সর্বমোট ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চ) নিজ কামরায় ফিরে যান।

এর ফলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা কোনো রকম শুনানি করার সুযোগ পাননি। তবে বহুল আলোচিত এ মাসদার হোসেন মামলাটি সোমবার শুনানি হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ১২ ডিসেম্বর তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।