‘বিদেশে অর্থ পাচারের দাবি তথ্যভিত্তিক নয়’


অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে মর্মে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান যে দাবি জানিয়েছে তা তথ্যভিত্তিক নয়। পাচারের এ ধরণের প্রাক্কলন, গত কয়েক বছরে দেশের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার বিদ্যমান তারল্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

স্পিকার ড. শিরীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির (মহিলা আসন-৩০) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তবে অর্থমন্ত্রী বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে সংসদকে জানান, বিদেশে (সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও কানাডা ইত্যাদি) ফ্ল্যাট বা বাড়ি অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্থপাচার বিষয়ক বেশকিছু মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন ও দুদকের তদন্তাধীন রয়েছে।

মুহিত আরও বলেন, দেশ থেকে অর্থ পাচারের মাত্রা যাই হোক না কেন, পাচারের সম্ভাব্য উৎসগুলো বন্ধ করার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্নীতি বা অন্য কোনো অপরাধ হতে অর্জিত অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সরকার সক্রিয় রয়েছে। ইতোমধ্যে বিদেশে অর্থ পাচারের শনাক্ত হওয়া ঘটনাগুলোয় অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বিদেশে তাদের কাউন্টারপার্টদের সঙ্গে পারষ্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করছে।
আস্থা অর্জনে ফারমার্স ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে।

জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম উদ্দিনের (সিলেট-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ইতোমধ্যে পর্ষদ পুণর্গঠন করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপসারণ করে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। ফারমার্স ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিকট ৫০০ কোটি টাকার সাব অর্ডিনেটড বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটি পরিচালনা পরিষদের সদস্যগণ ব্যাংকটিতে এখন পর্যন্ত ১৩ কোটি টাকার আমানত নতুনভাবে জমা করেছেন। একইসঙ্গে ব্যাংকের খেলাপী ঋণ পুনরুদ্ধারের বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে আমানতকারীদের আস্থা অর্জনে তৎপর হওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।