বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা করা সূচকে ৮ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

ইজি অব ডুয়িং বিজনেস বা সহজে ব্যবসা করা সূচকে গত বছরের চেয়ে ৮ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৬৮তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৭৬তম।

বিশ্বব্যাংকের ‘ইজি অব ডুয়িং বিজনেস ২০২০’ সূচক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের এ চিত্র পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে সারা বিশ্বে একযোগে প্রকাশিত হয়েছে এ প্রতিবেদন।

তবে ৮ ধাপ এগুলেও দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু আফগানিস্তান ছাড়া সবার পেছনে বাংলাদেশের অবস্থান।

সারা বিশ্বে ব্যবসা করার জন্য সবচেয়ে ভালো দেশ হলো নিউজিল্যান্ড। দেশটি এবারও শীর্ষস্থানে আছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে আছে সিঙ্গাপুর। তৃতীয় স্থানে হংকং। সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে সোমালিয়া।

কোনো দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন ও তার বাস্তবায়ন কতটুকু সহজ বা কঠিন তার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক এই সূচক তৈরি করে।

মোট ১০টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বব্যাংক ডুয়িং বিজনেসের ধাপ নির্ধারণ করে। এগুলো হলো ব্যবসা শুরুর অনুমোদন, ভবন নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুৎসংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া। কোনো কোনো মানদণ্ডে আগের চেয়ে বাংলাদেশের এবার অনেকটা এগিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের এ বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯০টি দেশের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯তম।

ভবন নির্মাণের অনুমতি ও ব্যবসা শুরুর অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫তম, গতবছর এই অবস্থান ছিল ১৩৮।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। জমির নিবন্ধনে ১৮৪তম স্থানে বাংলাদেশ, গতবছর ছিল ১৮৩।

ঋণপ্রাপ্তিতে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৯তম, গতবছর ছিল ১৬১তম। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২, গতবছর ছিল ৮৯তম। কর প্রদানে বাংলাদেশ ১৫১ তম, আগের বছরও একই অবস্থানে ছিল।

বৈদেশিক বাণিজ্যে গতবারের মতো এবারও ১৭৬ তম অবস্থানে আছে। এছাড়া দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৫৪তম অবস্থানে আছে।

এ সূচকটি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই অঙ্কে বা কমপক্ষে ৯৯তম অবস্থানে নিয়ে আসার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এই জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।