বিশ্ব ইজতেমায় আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা

iztema120170111180532

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব। প্রথম পর্বে ঢাকা, গাজীপুরসহ দেশের ১৭ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন।

বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। ময়মনসিংহের পাগলা থানা এলাকা থেকে জিম্মাদার শাহজালাল মাস্টারের নেতৃত্বে ১৮ জনের একটি জামাত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ইজতেমা মাঠে পৌঁছায়। ওই জামাতের কামাল উদ্দিন তারু ও মো. ওয়াহাব জানান, পাগলা থানা এলাকার হরিপুরনয়াপাড়া, বোসেরবাড়ী, কান্দাপাড়া প্রভৃতি গ্রাম থেকে ১৮ জনের একটি জামাত মঙ্গলবার বাদ আছর এলাকা থেকে রওনা হয়েছিলেন।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে ১৭ জনের জামাত নিয়ে ইজতেমা মাঠে পৌঁছান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার মো. আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, গত জোড় ইজতেমার পর তিনি দ্বীনের কাজে ইজতেমা মাঠ থেকে ওই ১৭ জনের জামাতে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াতের কাজ করেন। এ জামাতে গাজীপুরের পাঁচজন এবং হালুয়াঘাটের ১২ জন ছিলেন। এক চিল্লা (৪০ দিন) দাওয়াতের কাজ শেষে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পঞ্চগড় থেকে রওয়ানা হয়ে বুধবার সকাল ১০টার দিকে ইজতেমা মাঠে পৌঁছান।

ইজতেমা মাঠের মুরব্বি গিয়াস উদ্দিন জানান, দেশের মুসল্লিদের পাশাপাশি বিদেশি মুসল্লিরাও ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। শুক্রবার শুরু হবে ইজতেমার প্রথমপর্ব। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে রোববার। চার দিনে বিরতি দিয়ে ২০-২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয়পর্ব। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য এবার ২০ শতাংশ আবাসনসহ অন্যান্য ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার সব কাজ করা হয় মোশাআরার (পরামর্শ) মাধ্যমে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্নস্থানের তাবলিগ জামাতের সদস্যরা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, শিল্পকারখানার শ্রমিকরাসহ বিভিন্ন পেশার মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে ইজতেমা মাঠের বিশাল এলাকা জুড়ে টাঙানো হয়েছে সামিয়ানা। তৈরি করা হয়েছে বিদেশি নিবাস, বয়ান মঞ্চ, দোয়া মঞ্চ, তুরাগ নদীতে ভাসমান সেতু, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ইত্যাদি।

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্ল্যাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশের কন্ট্রোল রুম। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমা এলাকার গুরুত্বপূর্ণস্থানে পোশাকে-সাদা পোশাকে পুলিশ, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেক্টর, ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে।

গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ইন্সপেক্টর মমিনুল ইসলাম জানান, বিশ্ব ইজতেমায় প্রথম পর্বে প্রায় ছয় হাজার নিরাপত্তা কর্মী কাজ করবেন।

তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে। ১৬০ একর এলাকা জুড়ে মাঠে বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকে তাবলিগ জামাতের অনুসারী অংশ নেন। তারা এখানে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শোনেন এবং ইসলামের দাওয়াতি কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যান।