‘বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় রেহেনাকে হত্যা করে প্রেমিক’

যশোরের বাঘারপাড়ায় রেহেনা হত্যার দায় স্বীকার করেছে প্রেমিক নয়ন বিশ্বাস। বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে পরকীয়াপ্রেমিক। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রেহেনাকে গলা কেটে হত্যা করে তিনজন।

মঙ্গলবার যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি নয়ন বিশ্বাস। তিনি নড়াইল জেলার সিঙ্গিয়া গ্রামের আবুল কালাম বিশ্বাসের ছেলে।

সোমবার দুপুরে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটাবাজার থেকে নয়নকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবদুস সালাম।

জবানবন্দিতে নয়ন বলেছেন, ভিকটিম রেহেনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেম ও অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেহেনার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে মালয়েশিয়ায় যায়।

একপর্যায়ে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসে নয়ন। ভিকটিম রেহেনা তাকে বিয়ে করতে বলে। কিন্তু নয়ন ভিকটিমকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে।

রেহেনা বিয়ের জন্য নয়নের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিয়ে করবে না বলে রেহেনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ মার্চ নয়ন তার ফুফাতো ভাই মিন্টুর ইঞ্জিনচালিত ভ্যানযোগে মিন্টু, নয়নের মামা ইমাদুলসহ তিনজন একত্রে নড়াইল থানার সিংগীয়া গ্রাম থেকে রওনা হয়ে মাগুরা আড়পাড়া বাসস্ট্যান্ডে যান।

ওই দিনই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নয়নসহ অন্য অভিযুক্তরা আড়পাড়া বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা থেকে আসা ভিকটিম রেহেনাকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল বাঘারপাড়া থানাধীন আরজি বল্যামুখ গ্রামস্থ বালিয়াডাঙ্গা বামনহাটি কাঁচা রাস্তাসংলগ্ন মোহর সরদারের পতিত জমির দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে নিয়ে জোরপূর্বক ভ্যান থেকে নামায়।

অভিযুক্ত নয়ন ভিকটিম রেহেনার গলা চেপে ধরে ও তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে বলে স্বীকার করেন।

নিহত রেহেনা ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চরপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে।

নিহত রেহেনার মা সাইদা বেগম চলতি বছরের ২১ মার্চ বাঘারপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি অজ্ঞাত দেখানো হয়।

এর আগে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ রেহেনা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রধান আসামি নয়ন বিশ্বাসের মামা ইমামুল বিশ্বাসকে আটক করে। আটক ইমামুল নড়াইল জেলার সিঙ্গিয়া গ্রামের বাল্লক চান ওরফে বাকা বিশ্বাসের ছেলে।

পরে পিবিআই মামলার তদন্তভার নেয়ার পর নয়নের ফুফাতো ভাই একই গ্রামের খোঁজা মোল্লার ছেলে মিন্টু মোল্লাকে আটক করে।