বেনাপোলের হাফিজুর ঢাকায় গ্রেপ্তার, পরিবার বলছে ফাঁসানো হয়েছে

অস্ত্র চোরাকারবারে জড়িত অভিযোগ এনে রাজধানীর মিরপুর থেকে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালি এলাকার এক যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার ওই যুবকের নাম হাফিজুর রহমান। তিনি বেনাপোলের পুটখালি গ্রামের আমির বিশ্বাসের ছেলে।

তবে পরিবারের সদস্যরা দাবি, ৯ দিন আগে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হাফিজুরকে বেনাপোলের পর্যটন মোটেলে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

গত রবিবার (৩ নভেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও গতকাল মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) টেলিভিশনের খবর থেকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন হাফিজুরকে আটকের খবর।

গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, রবিবার রাতে মো. হাফিজুর রহমান (৩০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি রিভলবার এবং একটি শুটারগান উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশে ঢাকার উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার মশিউর রহমান গত সোমবার (৪ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘হাফিজুর রহমান তার সহযোগী হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও জিল্লুরের মাধ্যমে বেনাপোল দিয়ে চোরাই পথে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি আনতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হাফিজুর রহমান এর আগে গরু ও মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিলেন। মাস সাতেক আগে তিনি অস্ত্রের কারবারে নামেন। ভারতের তৈরি অন্তত ২০টি অস্ত্র তিনি এর মধ্যে বাংলাদেশে এনে বিক্রি করেছেন। একজনের ‘চাহিদা অনুযায়ী’ রবিবার চালানটি তিনি দেশে আনেন।

উপ-কমিশনার মশিউর বলেন, এই চক্রটি বিহার থেকে কলকাতার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও গুলি এনে গোপন স্থানে রাখে। পরে বাংলাদেশি অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দর কষাকষি করে। দর চূড়ান্ত হলে তারা বেনাপোলের পুটখালি সীমান্তের বিপরীতে কলকাতার উত্তর চব্বিশ পরগনার আংরাইল সীমান্তবর্তী গ্রাম এবং বাংলাদেশের বেনাপোলে পুটখালী গ্রামের নদীর তীরে গোসল করার কৌশলে অস্ত্রের চালান নিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। পরে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রটিকে দীর্ঘদিন অনুসরণ করার পর রবিবার রাত ১০টার পর মিরপুর মডেল থানার কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে থেকে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে চারটি অস্ত্রের সঙ্গে ১৭ রাউন্ড গুলিও পাওয়া যায়। হাফিজুর প্রতিটি অস্ত্র মোটামুটি ৩০ হাজার টাকায় কিনে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতেন জানিয়ে উপ কমিশনার মশিউর বলেন, ‘তার সঙ্গে আরও কয়েকজন আছে, তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’