‘বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটিয়ে গরম পানিতে চুবানো হতো’


রাজধানীর বংশালে এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে ইসমাইল হোসেন নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আর নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সালমাকে (ছদ্মনাম) (১৩) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করানো হয়েছে।

গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হাজি মোহাম্মদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি বংশালের সিক্কাটুলীর পার্কসংলগ্ন ১৯৩ নম্বর বাসার ছয়তলায় থাকেন। একই বাসার সাততলায় থাকে ইসমাইল হোসেন ও নাদিয়া সুলতানার পরিবার। ওই বাসাতেই গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে সালমা।

‘গত রোববার গভীর রাতে সাততলা থেকে চিৎকার শুনে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন সেখানে জড়ো হই। সেখানে গিয়ে গৃহকর্মী সালমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পাই। রাত গভীর হওয়ায় ওই দিন আর সালমাকে হাসপাতালে আনা হয়নি। পরের দিন সোমবার এই নির্যাতনের বিচার হওয়ার কথা হয়। তবে পরদিন সকালেই গৃহকর্তা ও গৃহকর্মী সালমাকে নিয়ে বাসা ছেড়ে কোথায় যেন চলে যায়। মঙ্গলবার আজ সকালে তারা আবার বাসায় ফিরে আসে।’

হাজি মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এরপর রাতে সালমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে রাজি হন গৃহকর্তা ইসমাইল হোসেন। রাতেই সালমাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। খবর পেয়ে বংশাল থানা পুলিশ হাসপাতালে এসে গৃহকর্তা ইসমাইল হোসেনকে আটক করে।

গৃহকর্মী সালমা হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানায়, সে তিন মাস ধরে ইসমাইল হোসেনের বাসায় কাজ করে। তার বাবা আবুল কাশেম সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। তিনি পরিবারের অন্য তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি থাকেন।

সালমা অভিযোগ করে বলে, ‘ওই বাসায় কাজে আসার পর থেকেই বিভিন্ন কারণে ইসমাইল ও তাঁর স্ত্রী তাকে মারধর করতেন। কাজে ভুল হলে কিংবা কাজ করতে না চাইলেই তাকে মারধর করা হতো।’

সালমা সাংবাদিকদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, ‘আমাকে বিদ্যুতের তার দিয়ে পেটানো হতো। গত পরশু রাতে আবার নির্যাতন করে তারা। নির্যাতনের একপর্যায়ে গরম পানিতে আমার হাত-পা চুবায়। চিৎকার করলে আরো বেশি মারত।’

বংশাল কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম জানান, গৃহকর্মী সালমার সঙ্গে কথা বলে নির্মম নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতন করা হতো। সর্বশেষ গত রোববার রাতে তাকে গরম পানিতে হাত-পা চুবিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।’