ভয়ঙ্কর, নৃশংস দম্পতি!


মেক্সিকোতে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুয়ান কার্লোস ও প্যাট্রিসিয়া নামের ওই দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা কমপক্ষে ২০ জনকে হত্যা করার পর তাদের শরীরের নানা অংশ বিক্রি করেছে।

একটি হাতগাড়িতে করে শরীরের নানা অংশ পরিবহনের সময় সন্দেহজনক হলে পুলিশ তাদের তল্লাশি করে আটক করে। পরে আদালতে এক শুনানিতে সোমবার জুয়ান স্বীকার করেছে, সে কমপক্ষে ২০ জন নারীকে হত্যা করেছে।

মেক্সিকোর উপশহর একাটেপেকে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জুয়ান ও প্যাট্রিসিয়ার ফ্ল্যাট ও নিকটবর্তী আরেকটি সম্পত্তিতে মানুষের শরীরের নানা অংশ উদ্ধার করেছে। শরীরের এসব অংশ বালতিতে রেখে তার ওপর সিমেন্ট রাখা ছিল এবং অনেক অংশ ফ্রিজে রাখা ছিল।

কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ওই দুইজন শরীরের নানা অংশ বিক্রি করতেন। তবে ঠিক কার কাছে সেগুলো বিক্রি করতো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জুয়ান ও প্যাট্রিসিয়ার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তারা প্রায়ই ওই দুইজনকে হাতগাড়ি ঠেলতে দেখেছেন। এই হাতগাড়ি শরীরের নানা অংশ পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। এই গাড়িসহই পুলিশ তাদেরকে আটক করে।

গত সেপ্টেম্বরে ন্যান্সি হুইট্রন নামের এক নারী ও তার দুই মাসের কন্যাশিশু ভ্যালেনটিনা নিখোঁজ হন। তাদের খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ জুয়ান ও প্যাট্রিসিয়াকে থামায় ও তল্লাশি চালাতে গিয়ে শরীরের অংশসহ গ্রেপ্তার করে।

সোমবারের শুনানিতে জুয়ান কার্লোস স্বীকার করেছে যে, সে হুইট্রন ছাড়াও আরো কমপক্ষে ১৯ জনকে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে ২৩ বছর বয়সি আরলেট ওলগুইন ও ২৯ বছর বয়সি এভেলিন রোজাস রয়েছে।

জুয়ান আরো স্বীকার করে, হত্যার আগে অনেক নারীকে সে ধর্ষণ করেছে এবং হত্যার পর তাদের শরীরের নানা অংশ বিক্রি করেছে। আর এসব কাজে তাকে সহায়তা করতো প্যাট্রিসিয়া।

মেক্সিকোতে ‘নারী হত্যা’ অনেকটাই সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে। অপরাধীরা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

এ মামলার শুনানির পর একাটেপেকে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় লোকজন।