মদ খেয়ে অচেতন, ঘুমন্ত বিমানসেবিকাকে সহকর্মীর ধর্ষণ


পেশায় বিমানসেবিকা এক তরুণীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার ‘বন্ধু’ ও তার রুমমেটদের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে আন্ধেরির এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই বিমানসেবিকার অভিযুক্ত বন্ধু স্বপ্নিল বাদোদিয়াকে। জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করেছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিতা শীর্ষস্থানীয় একটি বেসরকারি বিমান পরিবহণ সংস্থায় কর্মরত। অভিযুক্ত স্বপ্নিল বদোদিয়া তার সহকর্মী। কাজের সূত্রেই তারা পরস্পরের পরিচিত এবং বন্ধু। মঙ্গলবার রাতে ওই তরুণী এবং স্বপ্নিল রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়া করেন। তার পরে তারা গনি নগরে স্বপ্নিলের ফ্ল্যাটে এসে মদ্যপান শুরু করেন।

ওই ফ্ল্যাটে স্বপ্নিল আরো কয়েকজনের সঙ্গে পেয়িং গেস্ট হিসেবে ভাড়া থাকেন। ঘটনার রাতে তারা সকলে তো বটেই, তার পরিচিত অন্য আর এক তরুণীও সেখানে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানায়, তরুণীর অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে মদ্যপান করে অচেতন অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তখনই স্বপ্নিল ও তার রুমমেটরা একসঙ্গে তাকে গণধর্ষণ করে। বুধবার সকালে উঠে তিনি গোটা ঘটনাটি বুঝতে পারেন বলে জানিয়েছেন তরুণী।

সকালে ঘুম ভাঙলে শরীরে অসম্ভব যন্ত্রণা অনুভব করেন তিনি। চোখের নীচে, হাতে এবং কাঁধে আঘাতের চিহ্ন নজরে পড়ে তার। তড়িঘড়ি ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যোগেশ্বরীর ম্যাকডোনাল্ড জয়েন্টে গিয়ে বসেন তিনি। সেখান থেকে এক বন্ধু তাকে বাড়ি নিয়ে যান। সব কিছু জানতে পেরে নির্যাতিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই খবর দেন মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্মোরেশন (এমআইডিসি) থানায়।

স্বপ্নিল ও তার বন্ধুরা মিলে তাকে গণধর্ষণ করেছে বলে নিজের বয়ানে জানান নির্যাতিতা। তার পরই বুধবার সকালে অভিযুক্ত স্বপ্নিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ জুন পর্যন্ত তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। স্বপ্নিলের বিরুদ্ধে ৩৭৬-ডি ধারায় (এক বা একাধিক ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণ) মামলা দায়ের হয়েছে। জেরায় ইতোমধ্যেই অপরাধ স্বীকার করেছেন তিনি। তবে গণধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি কাজটি করেছেন বলে দাবি করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।