মাত্র ছয় দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২৫৭ জনের পুলিশে চাকরি


বাংলাদেশ পুলিশে ট্র্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ময়মনসিংহে ২৫৭ নারী ও পুরুষকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। মাত্র ছয় দিনের মধ্যে শারীরিক, লিখিত, মৌখিক ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা শেষে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়।

গতকাল সোমবার রাতে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্স হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে কনস্টেবল নিয়োগের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেন।

এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, ‘শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্যে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করতে শারীরিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণে কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। যাঁরা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা প্রকৃতভাবে মেধাবী ও যোগ্য।’

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের উদ্দেশে শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আপনারা নির্বাচিত হয়েছেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা যদি কারো সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন করে থাকেন এবং ওই অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে বলে মনে করেন, তাহলে আপনি নিজেই প্রতারিত হয়েছেন। নিজের মেধা ও যোগ্যতাকে ছোট করে দেখেছেন।’

জেলা পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধকারী বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী আবারও প্রমাণ করেছে, তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে বদ্ধপরিকর এবং পুলিশ রক্তের ঋণ শোধ করতে দেশপ্রেমের মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’

জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কনস্টেবল নিয়োগের জন্য গত ১ জুলাই জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে শারীরিক মাপের পরীক্ষায় ছয় হাজার ২৮০ নারী-পুরুষ অংশ নেন। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৬৮ জন উত্তীর্ণ হন। লিখিত পরীক্ষা শেষে গত ৭ জুলাই ৪৫২ জন উত্তীর্ণ হন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একই দিন মৌখিক ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা নেওয়া হয়। ৮ জুলাই ২৫৭ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

এর মধ্যে পুরুষ সাধারণ কোটায় ১৬০ জন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান/নাতি কোটা পুরুষ ৩০ জন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান/নাতি কোটা নারী একজন, পুলিশ পোষ্য কোটা পুরুষ সাতজন, পুলিশ পোষ্য নারী কোটা তিনজন, এতিম পুরুষ কোটা একজন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা পুরুষ চারজন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা নারী একজন, নারী সাধারণ কোটায় ৫০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় অপূরণকৃত কোটায় সাধারণ নিয়োগ প্রার্থীদের মধ্য থেকে মেধাবী ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে নির্বাচিত নতুন পুলিশ সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, আবু সুফিয়ান, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম, ডিআইওয়ান মোখলেছুর রহমান, জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ, রিজার্ভ পুলিশের পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।