মানবতাবিরোধী অপরাধে কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। এদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জে কায়সার বাহিনী গঠন করে ১৫২ জনকে হত্যা, ২ জনকে ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন ও ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জ ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ১৫২ জনকে গণহত্যা, ২ নারীকে ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ সহযোগিতার দায়ে এ সাজা দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ফাঁসির সাজা বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন কায়সার।

ওই সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ৫০০ থেকে ৭০০ ‘স্বাধীনতাবিরোধীকে’ নিয়ে নিজেই ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন এ মুসলিম লীগ নেতা। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে তিনি লন্ডনে পালিয়ে যান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে ফেরেন এ রাজাকার কমান্ডার।