মালয়েশিয়া থেকে ফিরেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা!


মালয়েশিয়া থেকে ফেরার পরের দিন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় তৃষা খাতুন (২৩) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর তাঁর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। আজ শনিবার উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চর-ভাঙ্গুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন তাঁর স্বামী।

নিহত তৃষা ওই গ্রামের মো. আতাহার আলীর স্ত্রী ও একই উপজেলার পারভাঙ্গুড়া গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, প্রায় চার বছর আগে আতাহারের সঙ্গে তৃষার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। গতকাল ২৩ আগস্ট মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসার পরের দিনই এমন ঘটনা ঘটল।

তৃষার বাবা কোরবান আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার জামাই আতাহার আলী আজ তুচ্ছ কারণে আমার মেয়ের মাথায় এবং কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তৃষা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং তাঁর নাক-মুখ দিয়ে ফ্যানা উঠতে থাকে। অবস্থার বেগতিক দেখে আতাহার তৃষার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে।’

তৃষার শাশুড়ি আনজুয়ারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘তৃষা মোবাইল ফোনে অন্য কারো সঙ্গে কথা বলত। এটা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার একপর্যায়ে এমন ঘটনা ঘটে।’

তৃষার শ্বশুর শহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁর বড় ছেলে মালয়েশিয়া থেকে বাড়ি আসেন। পর দিন শনিবার সকালে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আতাহার তৃষাকে মারপিটও করেন। সেই অভিমানে তাঁর ছেলের বউ বিষপান করতে পারেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম বলেন, চর-ভাঙ্গুড়া এলাকা থেকে তৃষা নামের এক গৃহবধূকে দুপুরের দিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় থানায় তৃষার লাশ নিয়ে আসা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ পাবনা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা বলা যাবে।