ম্যানইউকে ইউরোপীয়ান কোন আসরে পরাজিত করে ইতিহাস পিএসজির

প্রথম কোন ফ্রেঞ্চ ক্লাব হিসেবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেক ইউরোপীয়ান কোন আসরে পরাজিত করে ইতিহাস রচনা করেছে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬’র প্রথম লেগের লড়াইয়ে পিএসজি ২-০ গোলে ইউনাইটেডকে পরাজিত করে এই কৃতিত্ব দেখায়। একইসাথে আরো একটি বিষয় এখানে প্রমানিত হয়েছে ঘরোয়া আসরের তুলনায় এই ধরনের প্রতিযোগিতায় দলের সাফল্য পাওয়াটা মোটেই সহজ কাজ নয়।

অন্তবর্তীকালীন কোচ ওলে গানার সুলশারের অধীনে গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত খেলা ১১টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় তুলে নিয়েছিল ইউনাইটেড। বাকি ম্যাচটি ড্র হয়। অথচ ইউরোপীয়ান আসরে এসে পিএসজির কাছে ঘরের মাঠে হোঁচট খাওয়াটা সত্যিই হতাশার। আগামী ৬ মার্চ দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে এ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে ঠিক যতটা এগিয়ে থাকবে পিএসজি, ঠিক ততটাই কঠিন হয়ে যাবে ইউনাইটেডের এই দুই গোল পরিশোধ করে লড়াইয়ে ফিরে আসা।

প্রথমার্ধ গোলশুন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিটের মধ্যে প্রিসনেল কিমপেমবে ও কিলিয়ান এমবাপ্পের দুই গোলে পিএসজির জয় নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার নেইমার ও উরুগুয়ের তারকা এডিনসন কাভানিকে ছাড়া এভাবে জয় তুলে নেয়া পিএসজির জন্য দারুন এক সাফল্য। ইনজুরির কারনে দু’জনই দলের বাইরে রয়েছেন।

ম্যাচ শেষের এক মিনিট আগে ফ্রেঞ্চ তারকা পল পগবার দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে মাঠ ত্যাগ স্বাগতিকদের রাতটাকে আরো হতাশাজনক করে তুলেছিল। লাল কার্ডের কারনে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে খেলতে পারবেন না পগবা। ম্যাচ শেষে সুলশার বলেন, ‘আজ আমরা সেই মানের কিছুই খেলতে পারিনি। পিএসজির বিপক্ষে খেলতে গেলে একটা বিশেষ কিছু করে দেখানোর প্রয়োজন ছিল। যদিও আমরা দারুন আত্মবিশ্বাস নিয়েই এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিলাম। তারপরেও কোন কিছুই এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’
তারপরেও গত দুই মাসে যেভাবে ইউনাইটেড নিজেদের গড়ে তুলেছে তাতে ইতিবাচক কিছু পাওয়া যেতেই পারে। প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলের থেকে ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও চেলসিকে হটিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে আসাটাও ছিল অনেকটাই অবিশ্বাস্য। সুলশার বলেন, আমরা বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ চারে উঠে এসেছি। শীর্ষ চার এক বিষয়, কিন্তু আমরা একেবারে শীর্ষে উঠতে চাই। খেলোয়াড়রা আজ দারুন হতাশ হয়েছে। কিন্তু আমি জানি এর থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।
পিএসজি তাদের বড় খেলোয়াড়দের ছাড়াও যে বিশ্বমানের একটি দল সেটা প্রমানে কোন ছাড় দেয়নি। বিশেষ করে থমাস টাচেলের দলের শক্তিশালী মধ্যমাঠ ও আক্রমনে এমবাপ্পের গতির কাছে ইউনাইটেডকে নতি স্বীকার করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে ক্লাব রেকর্ড ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ইউনাইটেডে যোগ দেবার এক বছর পরেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। গতকাল আবারো পুরনো ক্লাবে ফিরে এসে স্বাগতিক সমর্থকদের অবশ্য খুব একটা সমর্থণ পাননি এই আর্জেন্টাইন তারকা। কিন্তু দুটি গোলেই দারুনভাবে অবদান রেখে ডি মারিয়া তার ইউনাইটেড সমালোচকদের মুখ কিছুটা হলেও বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। ম্যাচ শেষে পিএসজি বস টাচেল বলেছেন, ‘আমি মনে করি এই খেলোয়াড়টি অন্যান্য দক্ষিণ আমেরিকানদের মতই বেশ পেশাদার। তাকে যদি অবহেলা করা হয় এর অর্থ এই নয় যে সে দূর্বল হয়ে যাবে।’
প্রথমার্ধ গোলশুন্য থাকার পর সুলশার বিরতির পরপরই গোলের সন্ধানে জেসে লিনগার্ড ও এন্থনি মার্টিয়ালের পরিবর্তে এ্যালেক্সিস সানচেজ ও হুয়ান মাতাকে মাঠে নামান। কিন্তু তারপরেও পুরো ম্যাচে পিএসজির উপর তারা তেমন কোন উল্লেখযোগ্য আক্রমন সানাতে পারেনি। ইউনাইটেডের গোলবারে ডেভিড ডি গিয়া ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ৫৩ মিনিটে ডি মারিয়ার সুনির্দিষ্ট কর্ণার থেকে কিমপেমবের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। ৬০ মিনিটে ডি মারিয়ার আরেকটি লো ক্রস থেকে এমবাপ্পে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। সুলসার বলেন, এই ধরনের ম্যাচে প্রথম গোলটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যেভাবে আমরা গোলটি হজম করেছি তা হতাশার। দ্বিতীয় গোলটি তাদের সংঘবদ্ধ আক্রমনে ফসল।