যশোরে ঝুঁকি নিয়ে রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা

বর্তমান পরিস্থিতিতে পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ছাড়া কাজ করাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছেন যশোরে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিতরা। এখনও তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেসব সুবিধা দেয়া হয়নি। এতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তারা।

সেই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য যে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অবশ্য সিভিল সার্জন বলছেন, চিকিৎসকদের সর্তকতার সঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পিপিইর জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের শিকার বাংলাদেশও। যে কারণে প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় ইতোমধ্যে যশোর জেলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুতসহ বিভিন্ন ধরণের সর্তকতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রবাসীদের আগমন বৃদ্ধি ও তাদের সংস্পর্শে যাওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে যেসব রোগী আসছেন বা যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অজানা ভয়ে তটস্ত রয়েছেন চিকিৎসাসেবীরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে পিপিই ছাড়া কাজ করাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা।

এক নার্স বলেন, সরকারের থেকে আমাদের জন্য কোনো প্রটেকশনের ব্যবস্থা নেই। গ্লাভস ছাড়াই রোগী সেবা করে আসলাম।

আরেক নার্স বলেন, রোগীদের তো আমরা স্পর্শ করি, সেক্ষেত্রে তো আমাদের ঝুঁকি রয়েছে।

এক চিকিৎসক বলেন, যে কোনো সময় এ ভাইরাস আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে।

আরেক চিকিৎসক বলেন, এইগুলো না থাকা ও ব্যবহার না করার কারণে আমরা মারাত্মক ঝুঁকিতে আছি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য যে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

যশোর আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, যদি কোনো রোগী খারাপ অবস্থায় চলে যায়। তাহলে সেই রোগী আমাদের হাসপাতালে আইসিউতে রাখার ব্যবস্থা নেই।

অবশ্য সিভিল সার্জনের দাবি, যে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে তা সন্তোষজনক। আর চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পিপিইর জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

যশোর সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, আমরা আশা করছি, এইগুলো খুবই তাড়াতাড়ি পেয়ে যাব। তাহলে রোগী দেখার ভয় কেটে যাবে।