যে চকলেট লাইটের মতো জ্বলজ্বল করে!

চকলেট নিয়ে গবেষণা সেই প্রাচীনকাল থেকেই। গবেষণা চলেছে এর রঙ, গন্ধ কিংবা আকার নিয়েও। হয়েছে বিস্তর স্বাদের চকলেট। কিন্তু এরপরেও এর গবেষণা থেমে নেই।

সম্প্রতি লাইটের মতো চকলেট উদ্ভাবন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্যামি ক্যামকার নামের একজন প্রযুক্তবিদ! হ্যাঁ, ইনি কোনো পেশাদার চকলেট প্রস্তুতকারক নন। বরং একটি আইটি কোম্পানির মালিক। কিন্তু তিনি বিভিন্ন খাবার নিয়ে গবেষণা করতে ভালোবাসেন। আর এবার স্পেশাল কোনো উপাদান ছাড়াই চকলেটকে দিয়েছেন অনন্য সাধারণ গড়ন- যে চকলেট প্রিজমের মতো জ্বলজ্বল করে।

স্যামি ক্যামকার থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে বানিয়েছেন এর ছাচ। পরে শুধুমাত্র চকলেটকে বিভিন্ন তাপমাত্রায় দ্রবীভূত এবং ঠান্ডা করে একে ভ্যাকুয়াম একটি প্রকোস্টে রেখে দিয়েছেন লাইটের মতো উজ্জ্বলতা। তিনি এর আগে এই উজ্জ্বলতা পরীক্ষা করেছিলেন ক্যান্ডির উপর। কিন্তু ক্যান্ডি প্রকৃতিগতভাবেই শক্ত হওয়ায় এটা সহজ একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাই তিনি আরো কঠিন কিছু করতে চেয়েছিলেন, যেটা তিনি করেন নরম চকলেটের ওপর এবং যার ফলাফল সবাইকে চমকে দিয়েছে।

শুধুমাত্র চকলেট ব্যবহার করে এমন সুন্দর গড়ন দেয়া খুবই চমকপ্রদ ব্যাপার। স্যামি চকলেটকে দিয়েছেন মাশরুমের আকার। তার মতে, ‘এটা চকলেটের ম্যাজিক!’

সুইজারল্যান্ড এমনিতেই চকলেটের জন্য বিখ্যাত, তাদের চকলেট নিয়ে গবেষণা অন্তহীন। সুইস নাগরিক স্যামি বলেন, ‘এটা যে কেউই করতে পারে। এটাতে আলাদা কোনো কোটিং (আবরণ) নেই। আলাদা কোনো উপাদান নেই। এটা এমন একটা ব্যাপার এটা নিজেই নিজের রঙ সৃষ্টি করে।’

স্যামি ক্যামেকারের কাছে ব্যাপারটা সহজ মনে হলেও এটা আসলেই বেশ নিপুণ একটা ব্যাপার। অর্থাৎ চকলেটের এমন ম্যাজিক সম্ভব করে পদার্থবিজ্ঞান। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় চকলেটকে দ্রবীভূত এবং ঠান্ডা করে চকলেটের ওপর এই টেক্সচার তৈরি করা হয়। তবে সেটা যাই হোক, বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন কৌশল বিক্রির কথা শোনা যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এটা বাজারে আসতে খুব বেশি সময় লাগার কথা না। তখন আপনিও কোনো এক ক্যান্ডেল নাইট ডিনারে আপনার প্রিয়জনকে আলোযুক্ত চকোলেট উপহার দিয়ে আপনার সম্পর্কে নতুন আলোর সূচনা করতে পারবেন।